বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বজুড়ে তীব্র বিরোধিতা এবং ফুটবল মহলে নজিরবিহীন বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিল ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা আর এগোবে না।
ইনফান্তিনো বলেন, “সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে এই প্রকল্প এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা মূল উদ্দেশ্যের স্বার্থেই আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই এই প্রস্তাব আর বাস্তবায়িত হবে না।”
বিশ্বকাপের পুরুষ ও মহিলা আসর এবং ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারের একটি বড় অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির জন্য ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FFE) নামে একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছিল ফিফা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েকশো কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা ছিল। ফিফার দাবি ছিল, সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
কিন্তু পরিকল্পনা ঘোষণার পর থেকেই ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল মহলে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। উয়েফা হুমকি দেয়, প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে ভবিষ্যতের ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কট করা হতে পারে। কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন-ও প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়।
এদিকে ফিফার অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। সংস্থার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া পরিকল্পনাটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার জন্য ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেন।
জানা গেছে, এই প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা থ্রাইভ ক্যাপিটাল-এর। তবে সপ্তাহজুড়ে তৈরি হওয়া প্রবল বিতর্কের পর তারাও প্রকল্পটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদস্য দেশগুলিকে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল। যারা এতে যোগ দিত, তাদের জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও ছিল।
পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ইনফান্তিনো বলেছেন, এখন তাঁর লক্ষ্য সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনা এবং ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন পথ খোঁজা, বিশেষ করে যেসব দেশে ফুটবলের উন্নয়নে বেশি সহায়তার প্রয়োজন।
তবে এই সিদ্ধান্তে ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক সংকট কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ফোলারিন বালোগুন-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী খুঁজতে উয়েফা-সহ একাধিক মহাদেশীয় সংস্থা ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে। ফলে এই বিতর্ক তাঁর নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতায় বড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছেন ফুটবল মহলের পর্যবেক্ষকরা।