Sports

বিশ্বকাপের দাম কে তৈরি করেন? ফুটবলারদের সংগঠন চাইছে ফিফার সিদ্ধান্তে অংশ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ফিফার বড় বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে ফুটবলার, ক্লাব ও লিগের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ দাবি করেছে পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো এবং তার ইউরোপীয় শাখা।
  • ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন বিশ্লেষণে তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের আর্থিক মূল্য তৈরি হয় বহু পক্ষের কাজের মাধ্যমে; সেই সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্তও একক পদাধিকারীর হাতে থাকা…
  • ১৫ সেপ্টেম্বরের সংবাদপ্রতিবেদনগুলিতে এই দাবি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ফিফার বড় বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে ফুটবলার, ক্লাব ও লিগের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ দাবি করেছে পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো এবং তার ইউরোপীয় শাখা। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন বিশ্লেষণে তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের আর্থিক মূল্য তৈরি হয় বহু পক্ষের কাজের মাধ্যমে; সেই সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্তও একক পদাধিকারীর হাতে থাকা উচিত নয়। ১৫ সেপ্টেম্বরের সংবাদপ্রতিবেদনগুলিতে এই দাবি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

বিতর্কের পটভূমি ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রত্যাহৃত প্রস্তাব। বিশ্বকাপসহ প্রধান প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে আপত্তি উঠেছিল। ফিফপ্রোর অভিযোগ, যাঁদের শ্রম ও বিনিয়োগে প্রতিযোগিতার মূল্য তৈরি হয়, তাঁদের যথাযথ অংশগ্রহণ ছাড়াই বিষয়টি এগোনো হয়েছিল। এটি সংগঠনের অভিযোগ; কোনও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

নতুন প্রতিবেদন তৈরি করেছে ফিফপ্রো ইউরোপ, প্লেয়ার আইকিউ এবং ফুটবল বেঞ্চমার্ক। তাদের হিসাবে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৮৫৬ জন ফুটবলার ইউরোপীয় কর্মবাজারে খেলতেন। এই খেলোয়াড়দের সম্মিলিত আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১,৬৯০ কোটি ইউরো—প্রতিযোগিতার মোট খেলোয়াড়মূল্যের ৯৪ শতাংশ। বাজারমূল্য অবশ্য প্রকৃত বিক্রয়মূল্য বা নগদ আয় নয়; এটি নির্দিষ্ট মূল্যায়নপদ্ধতির হিসাব।

ইউরোপে কর্মরত মানেই ইউরোপীয় নাগরিক, এমন নয়। ওই ৮৫৬ জনের মধ্যে ৪৫১ জন ছিলেন ইউরোপের বাইরের দেশের নাগরিক। প্রতিবেদনের যুক্তি, ইউরোপীয় ক্লাবব্যবস্থা বিশ্বের নানা অঞ্চলের প্রতিভার কর্মক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। তাই আলোচনাটি ইউরোপ বনাম বাকি বিশ্বের সরল বিরোধে নামিয়ে আনলে খেলোয়াড়দের বাস্তব চলাচল ও পারস্পরিক নির্ভরতা আড়ালে চলে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের মোট খেলোয়াড়মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ কেন্দ্রীভূত ছিল মাত্র কুড়িটি নিয়োগকর্তা ক্লাবে। সবগুলিই ইউরোপীয়। এই তথ্য একদিকে বড় ক্লাবগুলির অবদান দেখায়, অন্যদিকে ক্ষমতা ও সম্পদের ঘনত্বও তুলে ধরে। একই সংখ্যা দিয়ে তাই শুধু বেশি কর্তৃত্বের দাবি নয়, প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন করা যায়।

আয়ের বণ্টনও বিতর্কের অংশ। ফিফপ্রোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী জাতীয় সংস্থাগুলিকে পুরস্কার হিসেবে ফেরত দেওয়া বিশ্বকাপ আয়ের ভাগ ২০০৬ সালের আনুমানিক ১০.৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে প্রায় ৭.৭ শতাংশে নেমেছে। এই তুলনা তাদের ব্যবহৃত আয় ও পুরস্কারের সংজ্ঞার উপর নির্ভরশীল। খেলোয়াড়দের হাতে শেষ পর্যন্ত কত পৌঁছয়, সেটি আবার জাতীয় সংস্থার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

সংগঠনটি ফিফা কাউন্সিলের নির্বাহী সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার স্বাধীন পর্যালোচনা চেয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সদস্য সংস্থাগুলির সঙ্গে ফুটবলার, ক্লাব ও লিগকেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। কম সম্পদশালী অঞ্চলে অর্থ পৌঁছনোর বিরোধিতা করছে না বলে ফিফপ্রো স্পষ্ট করেছে। তাদের আপত্তি মূলত কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি কখন তথ্য পাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে।

এদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি মাকিস গাগাৎসিস এবং জার্মান দলের প্রাক্তন পরিচালক অলিভার বিয়েরহফও ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সেই অবস্থান উঠে এসেছে। তবে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি এবং সভাপতি নির্বাচনের প্রতিযোগিতা আলাদা বিষয়। কোনও প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেই তার সব সমালোচক একই বিকল্প প্রার্থীর সমর্থক হয়ে যান না।

বিশ্লেষণ: ফিফপ্রোর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সংগঠনটি নিজেও স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ। ইউরোপীয় ক্লাবের আর্থিক অবদান বেশি বলেই বিশ্ব ফুটবলের সব সিদ্ধান্ত তাদের হাতে থাকা উচিত—এমন সিদ্ধান্ত প্রতিবেদন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না। ছোট দেশের জাতীয় দল, কম আয়ের লিগ এবং উন্নয়নমূলক ফুটবলের প্রয়োজনও বৈশ্বিক সংস্থার দায়িত্বের অংশ।

কার্যকর সংস্কারের পরীক্ষা হবে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্যে। বড় চুক্তির আগে শর্ত প্রকাশ, স্বাধীন মূল্যায়ন, স্বার্থের সংঘাতের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মত দেওয়ার সুযোগ প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণও শুধু প্রতীকী আসন হলে লাভ কম। প্রত্যাহৃত একটি প্রস্তাব সাময়িক বিরোধ থামাতে পারে; ভবিষ্যতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে, সেই নিয়ম বদলালেই স্থায়ী পরিবর্তনের প্রমাণ মিলবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles