Sports

ভারতের জন্য তৈরি হচ্ছে জাপানের ক্রিকেটমাঠ, এক ম্যাচে বড় ভবিষ্যতের বাজি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জাপানের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমাঠে ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি খেলবে জাপান।
  • ম্যাচের ঘোষণা আগেই হয়েছিল; নতুন খবর হল, আয়োজনের জন্য মাঠ, পিচ, দর্শকব্যবস্থা ও অর্থসংস্থানে কত বড় পরিবর্তন আনছে জাপান ক্রিকেট সংস্থা।
  • ১৫ সেপ্টেম্বর রয়টার্স এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই প্রস্তুতির বিস্তারিত উঠে এসেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জাপানের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমাঠে ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি খেলবে জাপান। ম্যাচের ঘোষণা আগেই হয়েছিল; নতুন খবর হল, আয়োজনের জন্য মাঠ, পিচ, দর্শকব্যবস্থা ও অর্থসংস্থানে কত বড় পরিবর্তন আনছে জাপান ক্রিকেট সংস্থা। ১৫ সেপ্টেম্বর রয়টার্স এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই প্রস্তুতির বিস্তারিত উঠে এসেছে। ম্যাচটি জাপানের ক্রিকেটের জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, তোচিগি প্রদেশের সানোয় প্রতিযোগিতাটির নাম সুজুকি কাপ। জাপানের স্থানীয় সময় দুপুর একটায়, অর্থাৎ ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ন’টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা। এটি ভারত ও জাপানের ক্রীড়া-যোগাযোগ বাড়ানোর ‘স্পোর্ট ৭৫’ উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ। কূটনৈতিক সম্পর্কের পঁচাত্তর বছর উদ্‌যাপনের কর্মসূচির সঙ্গে ম্যাচটির যোগ রয়েছে।

এই যোগাযোগের গুরুত্ব জাপানি আয়োজকদের কাছে শুধু প্রতীকী নয়। পূর্ণ সদস্য দেশের জাতীয় দলকে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিল জাপান ক্রিকেট সংস্থা। সরকারি পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এগোনো সহজ হয়েছে বলে সংস্থার প্রধান নির্বাহী নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি জানিয়েছেন। ক্রিকেটের বিশ্বব্যবস্থায় ছোট সংস্থার জন্য এমন যোগাযোগ অনেক সময় অর্থের মতোই জরুরি।

অর্থের অঙ্কও ছোট নয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে মিয়াজি জানিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক বাজেট প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি ইয়েন; এই একটি ম্যাচ আয়োজনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি ইয়েন। অর্থাৎ বার্ষিক সামর্থ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে ব্যয় হচ্ছে। আয়োজকদের যুক্তি, নতুন দর্শক ও পৃষ্ঠপোষকের কাছে জাপানের ক্রিকেটকে দেখানোর সুযোগটি দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবান হতে পারে।

দর্শকধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৫০০ থেকে ২,০০০-এ। জাপান ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে ছোট মাঠের সব টিকিট বিক্রি হওয়া এবং গোটা দেশে ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া আলাদা ঘটনা। এই ম্যাচ আগ্রহের একটি দৃশ্যমান পরীক্ষা; সেই আগ্রহকে নিয়মিত স্থানীয় খেলায় নিয়ে যেতে পরবর্তী কর্মসূচিও লাগবে।

পিচ তৈরিতে সাহায্য করছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। তাদের মাঠকর্মী ও পিচের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে সানো এবং আইচি প্রদেশের নিশিনের মাঠে। নিশিনে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট হবে। একই ধরনের পিচ তৈরি হলে সানোকে অনুশীলনের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে দ্বিপাক্ষিক ম্যাচের প্রস্তুতি এবং বহুদেশীয় প্রতিযোগিতার প্রয়োজন কিছুটা একসঙ্গে মেটানো হচ্ছে।

দর্শকদের জন্য জাপান ক্রিকেট সংস্থার নির্দেশনাও আয়োজনের বাস্তব সীমা দেখায়। মাঠে দর্শকদের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা নেই। গণপরিবহণ ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে; তানুমা স্টেশন থেকে হাঁটাপথের তথ্য দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট অন্য স্থান থেকে শাটল বাসের পরিকল্পনাও রয়েছে। ছোট ক্রিকেটকেন্দ্রকে হঠাৎ বড় ম্যাচের জায়গায় বদলাতে কেবল অতিরিক্ত চেয়ার বসালেই হয় না।

খেলাটি ছড়ানোর কাজ সানোর বাইরেও চলছে। জাপান ক্রিকেট সংস্থার উদ্যোগে ওয়াতারি, কাইজুকা ও নিশিনের মতো জায়গায় স্থানীয় ভিত্তি তৈরির চেষ্টা রয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জাপানি ক্রিকেটার সাবাওরিশ রবিচন্দ্রন জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের অনেককেই চাকরির পাশাপাশি ক্রিকেট চালাতে হয়। এই কাঠামোয় প্রশিক্ষণের সময়, যাতায়াত এবং মাঠ পাওয়ার সমস্যা পেশাদার দলের তুলনায় ভিন্ন।

বিশ্লেষণ: ভারতের সঙ্গে খেলার মূল্য জাপানের কাছে ফলাফলের বাইরেও। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়া, আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা এবং নতুন প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতায় আনা—সবই শেখার সুযোগ। কিন্তু একটি বড় ম্যাচের খরচ যদি পরবর্তী স্থানীয় কর্মসূচির সামর্থ্য কমিয়ে দেয়, লাভ সীমিত হতে পারে। আয়োজকদের বিনিয়োগটি তাই ম্যাচের পরের কয়েক বছর দিয়ে বিচার করতে হবে।

ভারতের জন্যও এটি ক্রিকেট বিস্তারে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ। শুধু বড় বাজারগুলির মধ্যে বারবার খেলার বদলে সহযোগী সদস্য দেশের মাঠে জাতীয় দলের উপস্থিতি অন্য ধরনের মূল্য তৈরি করে। সবচেয়ে কার্যকর উত্তরাধিকার হবে স্থানীয় প্রশিক্ষক, স্কুলের খেলোয়াড় এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা। ২২ সেপ্টেম্বরের স্কোরবোর্ড সেই দিনের ফল বলবে; জাপানি ক্রিকেটের প্রকৃত লাভ বোঝা যাবে কতজন নতুন মানুষ পরেও মাঠে থাকেন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles