দৌড়ের বিশ্বমঞ্চ এবার আফ্রিকায়: ২০২৯-এর আয়োজক নাইরোবি

যা জানা জরুরি
- বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ প্রথমবার আফ্রিকায় যাচ্ছে।
- ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স জানিয়েছে, ২০২৯ সালের প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি।
- একই সিদ্ধান্তে ২০৩১ সালের আসর পেয়েছে জার্মানির মিউনিখ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ প্রথমবার আফ্রিকায় যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স জানিয়েছে, ২০২৯ সালের প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি। একই সিদ্ধান্তে ২০৩১ সালের আসর পেয়েছে জার্মানির মিউনিখ। বুদাপেস্টে ১৪–১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংস্থার পরিষদের বৈঠকে এই নির্বাচন হয়। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে আফ্রিকার দীর্ঘ ক্রীড়াগত অবদানের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে প্রধান বৈশ্বিক আসর আয়োজনের অধিকার।
নাইরোবির প্রধান প্রতিযোগিতাস্থল হবে কাসারানি স্টেডিয়াম। সেখানে এখন বড় সংস্কার চলছে, যার নিকটবর্তী লক্ষ্য ২০২৭ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফুটবল। তার দুই বছর পরে অ্যাথলেটিক্সের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। একই পরিকাঠামো পরপর দুই আন্তর্জাতিক আয়োজনের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তাই কেনিয়ার প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ফুটবল আয়োজনের উপযোগী স্টেডিয়াম এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার প্রয়োজন সম্পূর্ণ এক নয়।
কেনিয়া আগেও এই প্রতিযোগিতা চেয়েছিল। ২০২৫ সালের আয়োজনের দৌড়ে তাদের হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল টোকিয়ো। এবার লন্ডন, রোম ও মিউনিখও আবেদনকারী ছিল। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সভাপতি সেবাস্তিয়ান কো জানিয়েছেন, চারটি প্রস্তাবই শক্তিশালী ছিল। নাইরোবির পক্ষে আর্থিক নিশ্চয়তা, পরিচালনার প্রস্তুতি এবং নতুন অঞ্চলে খেলাটি বিস্তারের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আফ্রিকায় বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের প্রতিযোগিতা অবশ্য এই প্রথম নয়। কেনিয়ার মোম্বাসা ২০০৭ সালে বিশ্ব ক্রস-কান্ট্রি আয়োজন করেছে। নাইরোবিতে ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব–১৮ এবং ২০২১ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে। অর্থাৎ আসন্ন আয়োজন সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাহীন কোনও শহরের হাতে যাচ্ছে না। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা থেকে প্রধান সিনিয়র আসরে পৌঁছনোটাই এখানে বড় পদক্ষেপ।
কেনিয়ার মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার দৌড়বিদেরা বহু দশক ধরে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের পরিচিত মুখ। ফেইথ কিপিয়েগন, এলিউড কিপচোগে, ডেভিড রুডিশা কিংবা হেলেন ওবিরির সাফল্য দেশের সঙ্গে খেলাটির সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক পরিচয় দিয়েছে। এতদিন সেই সাফল্যের বড় অংশ উদ্যাপিত হয়েছে অন্য মহাদেশের স্টেডিয়ামে। এবার দেশের দর্শকের সামনে একই স্তরের প্রতিযোগিতা দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিজস্ব দর্শকসমীক্ষাতেও কেনিয়ায় আগ্রহের শক্ত ভিত্তি পাওয়া গেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া কেনীয়দের ৬৮ শতাংশ অ্যাথলেটিক্সে উচ্চ আগ্রহের কথা বলেছেন; সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক গড় ছিল ৩৯ শতাংশ। এটি গোটা দেশের নির্ভুল গণনা নয়, নির্দিষ্ট সমীক্ষার ফল। তবু স্থানীয় দর্শক পাওয়ার সম্ভাবনা বোঝাতে আয়োজক নির্বাচনের ব্যাখ্যায় সংখ্যাটি ব্যবহার করেছে সংস্থা।
অন্যদিকে লন্ডনের ব্যর্থতা ব্রিটিশ অ্যাথলেটিক্সের জন্য বড় ধাক্কা। যুক্তরাজ্য সরকার ও লন্ডনের প্রশাসনের সমর্থন নিয়ে আবেদন করেছিল অ্যাথলেটিক ভেঞ্চার্স। ব্রিটিশ অ্যাথলেটিক্সের প্রধান নির্বাহী জ্যাক বাকনার গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নাইরোবিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে বড় প্রতিযোগিতা আনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। নির্বাচনটি তাই কেবল একটি শহরের জয় নয়, প্রতিযোগী আয়োজন-দর্শনেরও লড়াই।
মিউনিখে ২০৩১ সালের আসর হবে অলিম্পিক স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে। জার্মানি এর আগে স্টুটগার্ট ও বার্লিনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে। মিউনিখের ২০২২ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শকসমাগম এবং বিদ্যমান অলিম্পিক পার্ক ব্যবহারের পরিকল্পনা এবার গুরুত্ব পেয়েছে। তার আগে ২০২৭ সালের ১০–১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ হবে বেজিংয়ে।
বিশ্লেষণ: নাইরোবির নির্বাচন অ্যাথলেটিক্সের ভৌগোলিক ভারসাম্যে বাস্তব পরিবর্তন। যে মহাদেশ খেলাটিকে অসংখ্য চ্যাম্পিয়ন দিয়েছে, সেখানে প্রধান আসর পৌঁছনো নতুন দর্শক, প্রশিক্ষক ও তরুণ খেলোয়াড়কে কাছে আনতে পারে। কিন্তু আয়োজনের অধিকার পাওয়াকে সফল আয়োজন বলে ধরে নেওয়া যাবে না। পরিবহণ, অনুশীলনক্ষেত্র, চিকিৎসা, প্রবেশযোগ্যতা এবং নির্ভরযোগ্য পরিচালনা এখন পরীক্ষার বিষয়।
সবচেয়ে স্থায়ী লাভ হতে পারে প্রতিযোগিতার পরে। সংস্কার করা মাঠ স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের কতটা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে, প্রশিক্ষণের খরচ কত থাকবে এবং দেশের অন্য অঞ্চল কীভাবে যুক্ত হবে—সেই সিদ্ধান্তই উত্তরাধিকার গড়বে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ কয়েক দিনের; তার জন্য তৈরি ব্যবস্থা যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণে কাজে লাগে, তবেই আফ্রিকায় প্রথম আয়োজনের ঐতিহাসিক মর্যাদা দৈনন্দিন ক্রীড়াজীবনে অর্থ পাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



