সোনার স্বপ্নের পাশে নিজের রাজ্যে মাঠ চান লালরেমসিয়ামি

যা জানা জরুরি
- এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে ভারতের মহিলা হকি দল।
- কিন্তু ফরোয়ার্ড লালরেমসিয়ামির স্বপ্নের আর একটি ঠিকানা মিজোরাম।
- নিজের রাজ্যে আরও হকির মাঠ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি, যাতে পরের প্রজন্মের মেয়েদের খেলাটি শেখার জন্য অল্প বয়সেই দূরে চলে যেতে…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার লক্ষ্য নিয়ে জাপানে ভারতের মহিলা হকি দল। কিন্তু ফরোয়ার্ড লালরেমসিয়ামির স্বপ্নের আর একটি ঠিকানা মিজোরাম। নিজের রাজ্যে আরও হকির মাঠ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি, যাতে পরের প্রজন্মের মেয়েদের খেলাটি শেখার জন্য অল্প বয়সেই দূরে চলে যেতে না হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিজের ভবিষ্যৎ-ভাবনা জানিয়েছেন।
কোলাসিবের মাটির মাঠ থেকে তাঁর যাত্রা শুরু। হকি শেখার সুযোগ নিতে অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যেতে হয়েছিল। পরিবারকে প্রথমে খেলাটির প্রয়োজন বোঝাতে হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। এখন মিজোরামের পরিচিত ক্রীড়ামুখ হয়ে সেই অভিজ্ঞতার অন্য দিক দেখছেন—আগ্রহী শিশু থাকলেও কাছাকাছি প্রশিক্ষণের পথ না থাকলে প্রতিভা কত সহজে থেমে যেতে পারে।
লালরেমসিয়ামির গুরুত্ব শুধু এই ব্যক্তিগত পথের জন্য নয়। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান প্রতিযোগিতায় খেলেছেন তিনি। হকি ইন্ডিয়ার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ১৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়। সেই সময়েই তাঁর অভিজ্ঞতার মধ্যে অলিম্পিক, বিশ্বকাপ, এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের একাধিক আসর ছিল। বর্তমান দল সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে চাইছে।
২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে কমবয়সি খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। একই বছর এশিয়ান গেমসে রুপো এবং যুব অলিম্পিকে রুপো জেতা দলের সদস্য হন। পরে টোকিয়োয় অলিম্পিকের চতুর্থ স্থানে শেষ করা ভারতীয় দলেও ছিলেন। বয়সভিত্তিক সাফল্য থেকে সিনিয়র স্তরে দীর্ঘদিন থাকা—তাঁর কেরিয়ারের শক্তি এই ধারাবাহিকতায়।
ব্যক্তিগত স্বীকৃতিও এসেছে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক হকি সংস্থার উদীয়মান তারকার পুরস্কার পান লালরেমসিয়ামি। তবে একজন ফরোয়ার্ডের কাজকে শুধু গোলসংখ্যায় মাপলে তাঁর পূর্ণ ভূমিকা ধরা পড়ে না। আক্রমণে জায়গা তৈরি, প্রতিপক্ষের বল বেরোনোর পথ বন্ধ করা এবং মাঝমাঠের সঙ্গে সংযোগও দলীয় খেলায় গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের দীর্ঘ উপস্থিতি সেই বহুমুখী প্রয়োজনের পটভূমিতেই দেখতে হয়।
এবারের ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক ফল আত্মবিশ্বাসের কারণ দিয়েছে। হকি ইন্ডিয়ার ৮ সেপ্টেম্বরের বিবরণ অনুযায়ী, দলটি বিশ্বকাপে পঞ্চম হয়েছে—১৯৭৪ সালের পরে তাদের সেরা ফল। তার আগে অকল্যান্ডে নেশনস কাপ জিতে পরবর্তী প্রো লিগে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। অধিনায়ক সালিমা টেটে এবং প্রধান কোচ সিয়োর্দ মারিনের নেতৃত্বে এই ফলগুলি এসেছে।
এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, ২০ সেপ্টেম্বর। গ্রুপে আরও রয়েছে জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। আয়োজক জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতিটি ম্যাচের প্রস্তুতি আলাদা হলেও বড় লক্ষ্য সোনা। সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা অর্জন ব্যবস্থায় শীর্ষ যোগ্য দল লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জায়গাও পাবে; ফলে পদকের সঙ্গে পরবর্তী অলিম্পিক-চক্রের সরাসরি যোগ রয়েছে।
এই দলের মধ্যে অভিজ্ঞ ও নতুন খেলোয়াড়ের মিশ্রণ আছে। সবিতা, নবরীত কৌর, নিক্কি প্রধান এবং লালরেমসিয়ামির মতো পরিচিত নামের পাশে তরুণরাও সুযোগ পাচ্ছেন। কোনও এক তারকার উপর পুরো আক্রমণ নির্ভর না রেখে সম্মিলিত কার্যকারিতা বাড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশ্বকাপের ভালো ফল এশিয়ান গেমসের প্রতিটি ম্যাচকে সহজ করে দেবে না।
বিশ্লেষণ: লালরেমসিয়ামির মাঠ তৈরির ইচ্ছা ক্রীড়াসাফল্যের একটি ব্যবহারিক প্রশ্ন তোলে। একজন সফল খেলোয়াড় স্থানীয় শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে পারেন, কিন্তু আগ্রহের পরে দরকার প্রশিক্ষক, সরঞ্জাম, নিরাপদ যাতায়াত এবং নিয়মিত খেলার জায়গা। জাতীয় দলে পৌঁছনো একজনকে নিয়ে উদ্যাপন সহজ; তাঁর পরে আরও অনেককে শুরু করার সুযোগ দেওয়া বেশি স্থায়ী কাজ।
এই স্বপ্নকে এখনই অনুমোদিত প্রকল্প বা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বলা যাবে না। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এটি তাঁর আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষার মূল্য কম নয়, কারণ তা পদকের বাইরে প্রবেশাধিকারের কথা বলে। জাপানে তাঁর তাৎক্ষণিক কাজ ভারতের হয়ে খেলতে নামা; মিজোরামে ভবিষ্যতের কাজ হবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সঙ্গে সুযোগ বাড়ানো। দুই লক্ষ্য সম্পর্কিত, কিন্তু একটির সাফল্য অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



