অবিনাশ সাবলে: ১৪ মাস পর ট্র্যাকে ফেরা ও মানসিক বাধা জয়ের গল্প

যা জানা জরুরি
- দৌড়ের সময় হার্ডল দেখলেই একসময় ভয় পাচ্ছিলেন অবিনাশ সাবলে।
- হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পরে ভারতের এশিয়ান গেমসজয়ী স্টিপলচেজারের সমস্যাটি শুধু পেশি ও অস্থিসন্ধিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বাধা টপকাতে গিয়ে আবার চোট লাগার আশঙ্কাও তাঁর স্বাভাবিক…
- প্রায় ১৪ মাস প্রতিযোগিতার বাইরে কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ফিরে জয় পাওয়ায় তাই সময়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর মানসিক বাধা অতিক্রম।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দৌড়ের সময় হার্ডল দেখলেই একসময় ভয় পাচ্ছিলেন অবিনাশ সাবলে। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পরে ভারতের এশিয়ান গেমসজয়ী স্টিপলচেজারের সমস্যাটি শুধু পেশি ও অস্থিসন্ধিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বাধা টপকাতে গিয়ে আবার চোট লাগার আশঙ্কাও তাঁর স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছিল। প্রায় ১৪ মাস প্রতিযোগিতার বাইরে কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ফিরে জয় পাওয়ায় তাই সময়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর মানসিক বাধা অতিক্রম।
২০২৪ সালের মোনাকো ডায়মন্ড লিগে হাঁটুতে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন সাবলে। পরে অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্টে অস্ত্রোপচার করতে হয়। পুনর্বাসনের শুরুতে সাধারণ চলাচল ফিরিয়ে আনা, তার পরে দৌড় এবং সবশেষে বাধা টপকানো—প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ বিরতিতে ওজনও বেড়েছিল। মূল চোট সামলে ওঠার সময় পায়ের নীচের অংশে নতুন সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে যায়।
বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সময়ে সতীর্থ ও প্রশিক্ষকের সহায়তা পেয়েছেন তিনি। তবে শারীরিক সক্ষমতা ফিরে এলেও জলকুণ্ড ও নিরেট বাধা টপকানোর আত্মবিশ্বাস এক দিনে ফেরেনি। স্টিপলচেজে প্রতি চক্করে বাধা এড়ানোর সুযোগ নেই; এক মুহূর্তের দ্বিধা দৌড়ের ছন্দ, অবতরণ এবং পরের কয়েকটি পদক্ষেপেও প্রভাব ফেলে।
দিল্লির ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ ফাইনালে সাবলে ৩,০০০ মিটার স্টিপলচেজ শেষ করেন ৮ মিনিট ৩২.৩৯ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিযোগীর চেয়ে প্রায় ১৮ সেকেন্ড এগিয়ে ছিলেন। ফলটি তাঁর ৮ মিনিট ৯.৯১ সেকেন্ডের ব্যক্তিগত সেরা সময়ের কাছাকাছি নয়। কিন্তু দীর্ঘ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী বিরতির প্রথম প্রতিযোগিতায় ব্যবধান রেখে জেতা তাঁর প্রস্তুতির কার্যকর পরীক্ষা হয়েছে।
হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে সাবলে সোনা জিতেছিলেন। প্যারিস অলিম্পিকে তিনি একাদশ হন। চোটের কারণে সাম্প্রতিক কমনওয়েলথ গেমসে নামতে পারেননি। আইচি–নাগোয়ায় তাঁর প্রধান লক্ষ্য স্টিপলচেজের খেতাব রক্ষা; পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ৫,০০০ মিটারেও দৌড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি ইভেন্ট করলে পুনরুদ্ধার, সূচি ও সামগ্রিক দৌড়ের বোঝা হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
একটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার জয় থেকে অবশ্য আন্তর্জাতিক পদক নিশ্চিত করা যায় না। দিল্লির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবহাওয়া ও দৌড়ের কৌশল এশিয়ান গেমসের সমান নয়। ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ফলও তাঁর সর্বোচ্চ মান থেকে অনেক দূরে। নাগোয়ায় দ্রুতগতির দৌড় হলে শেষ কিলোমিটারে গতি বদল এবং বাধায় নির্ভুলতা তাঁর আসল পরীক্ষা হবে।
বিশ্লেষণ: প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সাবলের সময় নয়, আবার বাধার দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগোতে পারা। দীর্ঘমেয়াদি চোটের পরে ক্রীড়াবিদকে শুধু চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করলেই প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত বলা যায় না। পুনরায় চোটের ভয়, নিজের শরীরের উপর আস্থা এবং প্রতিযোগিতার চাপও পুনর্বাসনের অংশ।
ভারতের প্রত্যাশার চাপ যেন সেই ধীর প্রক্রিয়াকে আড়াল না করে। সাবলে এখনই ব্যক্তিগত সেরা ফল না করলেও তাঁর ফিরে আসা সফল পুনর্বাসনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নাগোয়ায় পদক পেলে প্রত্যাবর্তনটি পূর্ণতা পাবে; না পেলেও এক বছরের বেশি সময় পরে বাধা টপকে আন্তর্জাতিক মানে ফেরার মূল্য কমবে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



