সম্প্রতি ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু ইনস্টাগ্রামে নিজের ফিটনেস অনুশীলনের একটি ঝলক শেয়ার করেছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “তোমার কী মনে হয়, একটা খারাপ দিন আমাকে থামিয়ে দিতে পারবে?” সেখানে তাঁকে ওজনের প্লেট হাতে ওভারহেড ভি-সিট অনুশীলন করতে দেখা যায়। এই ব্যায়াম মূলত শরীরের কোর, হিপ ফ্লেক্সর, কাঁধ, উপরের পিঠ, ল্যাটিসিমাস ডরসি (ল্যাট), বাহু এবং গ্রিপের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্য তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। কোনও নতুন ব্যায়াম বা ফিটনেস রুটিন শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ব্যাডমিন্টনের মতো খেলায় সফল হতে শক্তি, গতি, ক্ষিপ্রতা, সহনশীলতা, ভারসাম্য এবং মানসিক দৃঢ়তার অসাধারণ সমন্বয় প্রয়োজন। পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ গরিমা গয়ালের মতে, সিন্ধুর অনুশীলনে সাধারণত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, প্লাইওমেট্রিক্স, ক্ষিপ্রতা বাড়ানোর ড্রিল, শরীর নমনীয় রাখার অনুশীলন, কোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম এবং হৃদ্যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ থাকে।
তিনি জানান, সিন্ধুর করা এই নির্দিষ্ট ব্যায়ামটি কোরের সহনশীলতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ায়, মাথার উপর দিয়ে শট মারার সময় কাঁধের স্থায়িত্ব উন্নত করে এবং শরীরের ভঙ্গিমা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়।
গরিমা গয়ালের কথায়, “ব্যাডমিন্টন বিশ্বের অন্যতম শারীরিকভাবে কঠিন র্যাকেট খেলা। একটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের শত শত বিস্ফোরণধর্মী নড়াচড়া, মুহূর্তের মধ্যে দিক পরিবর্তন, লাফ, লাঞ্জ এবং মাথার উপর দিয়ে শট নিতে হয়। তাই একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের প্রস্তুতি শুধু কোর্টে অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম স্ম্যাশে বেশি শক্তি জোগায় এবং পেশির সহনশীলতা বাড়ায়। ক্ষিপ্রতা ও ফুটওয়ার্কের অনুশীলন প্রতিক্রিয়ার গতি এবং কোর্টে চলাফেরার দক্ষতা বাড়ায়। অন্যদিকে, শক্তিশালী কোর শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে, চোটের ঝুঁকি কমাতে এবং জোরালো শটের সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে শক্তি সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ধরনের কঠোর অনুশীলনের সঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান জরুরি। গয়ালের মতে, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদদের পর্যাপ্ত শর্করা প্রয়োজন, যাতে শরীরের গ্লাইকোজেনের ভাণ্ডার পূরণ হয়। পাশাপাশি পেশি মেরামত ও পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চমানের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজও অপরিহার্য। বিশেষ করে কঠিন অনুশীলন বা প্রতিযোগিতার সময় পর্যাপ্ত জলপান এবং ব্যায়ামের পর সঠিক পুষ্টি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদের অনুশীলনের পরিকল্পনা তাঁদের খেলার ধরন, পূর্বের চোট, অনুশীলনের চাপ এবং পারফরম্যান্সের লক্ষ্য অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সেই একই রুটিন অনুসরণ করলে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা চোটের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য ধীরে ধীরে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, অ্যারোবিক অনুশীলন, নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুস্থ থাকার সেরা উপায়।
গরিমা গয়ালের কথায়, সিন্ধুর ফিটনেস রুটিন আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়—শুধু তীব্র অনুশীলন নয়, ধারাবাহিকতাই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিশ্রাম, শৃঙ্খলাবদ্ধ খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই চারটির সমন্বয়ই দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে।