হাইলাইটস:

  • এজেইউপি প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিল পুলিশ।
  • ৩ জুলাই শক্তিপুর এবং ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
  • তাঁর সভার তিন আয়োজককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ।
  • বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া পৃথক এফআইআরের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।

বাংলাস্ফিয়ার: প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তলব করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁর মাণিক্যহারের বাড়িতে নোটিস পৌঁছে দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় এবং ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় হাজির হয়ে তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর ও রেজিনগরে অনুষ্ঠিত দুটি জনসভায় হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ, ওই ভাষণে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এবং হিংসা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের সভার তিন আয়োজককেও গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিতর্কিত সভার আয়োজন ও পরিচালনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ যোগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে ডাকা হতে পারে।

সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং উস্কানিমূলক ভাষণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিনই পুলিশের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনও বেআইনি বা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেননি। তাঁর দাবি, তিনি কেবল এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। আইন মেনে তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বক্তব্যের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।