হাইলাইটস:

  • তিন বছর আগে রামনবমী শোভাযাত্রাকে ঘিরে রিষড়ার হিংসার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
  • রিষডার তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।
  • তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সংগৃহীত প্রমাণে স্পষ্ট যে হিংসা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
  • এনআইএ-র অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে আগাম সমন্বয় ও পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে।
  • অন্যদিকে, পৃথক এক ঘটনায় পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

বাংলাস্ফিয়ার: জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তিন বছর আগে হুগলির রিষড়ায় রামনবমী শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে। দীর্ঘ তদন্তের পর সংস্থার দাবি, ঘটনাটি কোনও আকস্মিক সংঘর্ষ ছিল না; বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হিংসা। তদন্তে সংগৃহীত নথি, ডিজিটাল তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এনআইএ।

এই মামলায় ঋষড়ার এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হিংসা উস্কে দেওয়া এবং ঘটনার পরিকল্পনায় ভূমিকা থাকার মতো অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। গ্রেফতারির পর তাঁকে আদালতে তোলা হবে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।

তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, ঘটনার আগে একাধিক বৈঠক, যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক তথ্য, মোবাইল ফোনের বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরির পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল। সেই কারণেই চার্জশিটে ‘পূর্বপরিকল্পিত হিংসা’-র বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঋষড়া ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। একাধিক যানবাহনে আগুন লাগানো, ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি এবং পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার যায়।

এনআইএ-র দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া জনরোষের বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে সংগঠিতভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই কারণেই ষড়যন্ত্রের ধারাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে, পৃথক একটি ঘটনায় প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশকর্মীকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া এবং ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সরকারি কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এনআইএ-র গ্রেফতারি এবং অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রামনবমী হিংসার তদন্তে এনআইএ-র এই পদক্ষেপ মামলাটিকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেল। আদালতে তদন্তকারী সংস্থা কী ধরনের প্রমাণ পেশ করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। একইসঙ্গে, প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পৃথক মামলাও রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।