হাইলাইটস:

  • রাজ্যে দলীয় কর্মীদের উপর হামলা, হেনস্থা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ফের চালু করলেন ‘এক ডাকে অভিষেক’ উদ্যোগ।
  • নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীরা, আইনি সহায়তার আশ্বাস।
  • বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ‘পুলিশি রাজ্যে’ পরিণত করেছে বলে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
  • হুগলি ও কোচবিহারে তৃণমূল নেতাদের দড়ি বেঁধে ঘোরানো, জুতোর মালা পরানো ও ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
  • পাল্টা কটাক্ষ বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের, “ফেসবুকে থাকার জন্যই এসব উদ্যোগ।”

বাংলাস্ফিয়ার: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, হেনস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ফের চালু করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুরনো জনসংযোগ কর্মসূচি ‘এক ডাকে অভিষেক’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আক্রান্ত দলীয় কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও সাংগঠনিক সহযোগিতা পাবেন বলে জানিয়েছে তৃণমূল।

দলের প্রকাশিত একটি ব্যানারে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৪ মে থেকে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হেনস্থা, ভয় দেখানো, বেআইনি আটক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ব্যানারে বলা হয়েছে, আক্রান্ত প্রত্যেক কর্মীর পাশে দল দৃঢ়ভাবে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর দাবি, নাগরিকদের আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তৃণমূল কর্মীদের দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে, তাঁদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হচ্ছে এবং একাধিক জায়গায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটছে।

অভিষেকের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত-এর নির্দেশিকা ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, দলবদল করতে অস্বীকার করায় তৃণমূলের বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং বিরোধী দলকে দুর্বল করতে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

কাউকে নাম না করে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, যে দল ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার কথা বলে, তারাই নাকি রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির লক্ষ্য মানুষের ভোট নয়, বিরোধীশূন্য রাজ্য ও বিরোধীশূন্য দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিবাদ, ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনার অধিকারও থাকবে না। তাঁর ভাষায়, পশ্চিমবঙ্গকে একটি “পুলিশি রাজ্যে” পরিণত করা হয়েছে।

অভিষেকের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছেন বিদ্রোহী তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। তিনি বলেন, “যাঁরা ফেসবুকে রাজনীতি করতে চান, তাঁরা এ ধরনের কর্মসূচি নিতে পারেন। আমরা কিন্তু ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

এদিকে, গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে অপদস্থ করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সোমবার হুগলির সিঙ্গুরের বাগডাঙা চিনামোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদ্বৈত দাসকে কোমরে দড়ি বেঁধে, জুতোর মালা পরিয়ে স্থানীয় বাজারে ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয় এবং “চোর” স্লোগান দেওয়া হয়।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারেও। ঘুঘুমারিতে তৃণমূল নেতা ফজলুল হককে কোমরে দড়ি বেঁধে বাজার এলাকায় ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কাটমানি আদায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, তুফানগঞ্জে প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি সুব্রত দাস ওরফে লিটনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাজ্য সরকারের তরফেও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।