Home SportsFIFA 2026 অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স! বিশ্বকাপে কেন দিদিয়ে দেশঁর দলকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে সবাই

অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স! বিশ্বকাপে কেন দিদিয়ে দেশঁর দলকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে সবাই

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
20 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • শেষ ষোলোয় সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের দোরগোড়ায় ফ্রান্স।
  • কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, মাইকেল অলিজের দুর্দান্ত সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
  • আক্রমণ, মাঝমাঠ, রক্ষণ এবং বেঞ্চ—সব বিভাগেই অসাধারণ ভারসাম্য।
  • টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ফরাসিরা।
  • ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন বা ইংল্যান্ড—সব বড় দলের কাছেই এখন সবচেয়ে কঠিন সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে কোনও দলকে সত্যিকারের দাবিদার বলা হয় তখনই, যখন তারা শুধু ম্যাচ জেতে না, প্রতিপক্ষের মনে ভয়ও তৈরি করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই জায়গায় এখন একাই দাঁড়িয়ে আছে ফ্রান্স। সুইডেনের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় শুধু আরেকটি নকআউট সাফল্য নয়; এটি ছিল শক্তির এমন প্রদর্শন, যা গোটা প্রতিযোগিতার বাকি দলগুলিকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এই ফ্রান্সকে হারাতে হলে প্রতিপক্ষকে প্রায় নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে।

সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই কিলিয়ান এমবাপ্পে। বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করেন, আর এমবাপ্পে যেন সেটিকেই অভ্যাসে পরিণত করেছেন। সুইডেনের বিরুদ্ধে তাঁর দুটি গোল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের—একটিতে দুরন্ত গতি, অন্যটিতে নিখুঁত ফিনিশিং। গোলের সংখ্যা যত বাড়ছে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি তত এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে।

তবে ফ্রান্সকে শুধুই এমবাপ্পের দল বলা ভুল হবে। এই বিশ্বকাপে মাইকেল অলিজের উত্থান ফরাসি আক্রমণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সুইডেনের বিরুদ্ধে দুটি অ্যাসিস্ট করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ যদি এমবাপ্পেকে আটকাতেও পারে, অলিজে অন্য দিক থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাঁর গতি, পাসের নিখুঁততা এবং একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে জেতার ক্ষমতা প্রতিটি রক্ষণভাগের জন্য আলাদা সমস্যা তৈরি করছে।

ফ্রান্সের শক্তির আরেকটি বড় দিক হল তাদের বহুমাত্রিক আক্রমণ। অনেক দল এক বা দুই তারকার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশঁর দলে গোল আসতে পারে যে কোনও জায়গা থেকে। মাঝমাঠ উঠে আসে, ফুল-ব্যাক আক্রমণে যোগ দেন, উইঙ্গাররা জায়গা বদল করেন। ফলে প্রতিপক্ষ বুঝতেই পারে না, কোন দিক সামলাবে। এক খেলোয়াড়কে আটকালেও অন্য কেউ সুযোগ তৈরি করে ফেলছেন।

মাঝমাঠে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণও অসাধারণ। তারা চাইলে ধীর গতিতে বল দখলে রেখে ম্যাচ চালাতে পারে, আবার মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা আক্রমণেও যেতে পারে। এই কৌশলগত নমনীয়তা বড় টুর্নামেন্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের বদলে নেওয়ার ক্ষমতা খুব কম দলেরই আছে।

রক্ষণভাগও সমান নির্ভরযোগ্য। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফরাসি ডিফেন্স খুব কম সুযোগই প্রতিপক্ষকে দিয়েছে। গোলরক্ষকের আত্মবিশ্বাস, সেন্টার-ব্যাকদের শৃঙ্খলা এবং পুরো দলের সম্মিলিত রক্ষণাত্মক কাজের ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার থমকে যাচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টে আক্রমণ যেমন ম্যাচ জেতায়, তেমনি দৃঢ় রক্ষণ শিরোপা এনে দেয়—ফ্রান্স সেই দুই দিকেই সফল।

ফ্রান্সকে আলাদা করে দেয় তাদের বেঞ্চের গভীরতাও। অনেক দলের প্রথম একাদশ দুর্দান্ত হলেও বদলি নামলে মান নেমে যায়। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে তার উল্টো। বেঞ্চ থেকে নামা ফুটবলাররাও ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে চোট, ক্লান্তি বা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তাই তাদের ওপর তুলনামূলকভাবে কম পড়ে।

প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশঁর অভিজ্ঞতাও বড় সম্পদ। তিনি জানেন, বিশ্বকাপ জিততে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; দরকার ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। তাই বড় জয়ের পরেও তিনি উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে ফুটবলারদের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই ফ্রান্সকে ধারাবাহিকভাবে সফল করেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির উদ্বেগের কারণ আরও একটি। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ফ্রান্সের পারফরম্যান্সও তত উন্নত হচ্ছে। অনেক দল গ্রুপ পর্বেই সেরা ফুটবল খেলে পরে ছন্দ হারায়। ফ্রান্স ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। নকআউটে এসে তাদের আক্রমণের ধার আরও বেড়েছে, খেলায় এসেছে আত্মবিশ্বাস ও পরিণত ভাব।

এখন সামনে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। কাগজে-কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও নকআউট ফুটবলে কোনও ম্যাচ সহজ নয়। তবু বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা, কৌশলগত বৈচিত্র্য এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা বিচার করলে ফরাসিরাই স্পষ্ট ফেভারিট।

এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের বাকি দলগুলির কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ একটাই—ফ্রান্স। কারণ এই দল শুধু জিতছে না, এমন এক ধরনের আধিপত্য দেখাচ্ছে যা প্রতিপক্ষকে ম্যাচ শুরুর আগেই মানসিক চাপে ফেলে দিচ্ছে। এমবাপ্পে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, অলিজে সৃজনশীলতার আগুন জ্বালাচ্ছেন, আর দেশঁ নিঃশব্দে এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন, যাদের থামানোর উপায় এখনও কেউ খুঁজে পায়নি। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি আবারও ফ্রান্সের হাতেই উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles