হাইলাইটস:
- ২০২৩ সালের তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার মেটিয়াবুরুজের প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল।
- ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ৭০ লক্ষ টাকা আদায়ের পরেও আরও টাকা দাবি করা হয়।
- বাধা দিলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা।
- তারাতলা গুদাম ধস মামলায় নাম জড়ানোর কয়েক দিনের মধ্যেই এই গ্রেফতারি।
বাংলাস্ফিয়ার: মেটিয়াবুরুজের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালকে সোমবার গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ২০২৩ সালে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলেই এই পদক্ষেপ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা ৩৩ বছরের ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাব রবিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী পরিকল্পিতভাবে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে শুরু করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ ফারাজ ওরফে ‘বুন’, ফিরোজ কুরেশি ওরফে ‘চুড়ি ফিরোজ’ এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালাতে হলে ৭০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই টাকা আদায়ের পরেও অভিযুক্তরা আরও অর্থ দাবি করতে শুরু করেন। পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগকারী টাকা দিতে অস্বীকার করলে শামস ইকবাল ও তাঁর সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান। ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি পরিবারকে ক্ষতি করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, যৌথ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক তদন্তে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই সোমবার শামস ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর। শামস ইকবাল দীর্ঘদিন মেটিয়াবুরুজ এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ফলে তাঁর গ্রেফতারকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কয়েক দিন আগেই তারাতলার গুদাম ধসের ঘটনায় শামস ইকবালের নাম উঠে এসেছিল। ওই ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। শাসক বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের অভিযোগে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, শামস ইকবাল-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, বন্দর এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও গুদামগুলিকে প্রশাসনিক প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারাতলা গুদাম ধস মামলায় ইতিমধ্যেই ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন বিশেষ কর্তব্যরত আধিকারিক কালিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আলিপুর আদালত। সেই আবহেই শামস ইকবালের বিরুদ্ধে পুরনো তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতারি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় আরও কয়েকজন অভিযুক্তের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেন, ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের দাবি, তদন্ত এগোলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।