মানুষ হিসেবেও স্বীকৃতি পাই না’: বিচার শুরুর আগেই উমর খালিদের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস: ছয় বছর ধরে বিচার শুরু না হয়েই দিল্লির তিহার জেলে বন্দি উমর খালিদ।
- ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন কারাজীবনের অভিজ্ঞতা।
- তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাইলাইটস:
- ছয় বছর ধরে বিচার শুরু না হয়েই দিল্লির তিহার জেলে বন্দি উমর খালিদ।
- ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন কারাজীবনের অভিজ্ঞতা।
- তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
- মোদী সরকার, বিচারপ্রক্রিয়া এবং বিরোধী শিবির—তিন দিকেই তীব্র সমালোচনা।
(প্রথম কিস্তি)
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত সাংবাদিক হান্না এলিস-পিটারসেন-এর একান্ত সাক্ষাৎকারের বাংলা অনুবাদ ও রূপান্তর। সাক্ষাৎকারটি সরাসরি তিহার জেলে গিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। কারাবন্দি অবস্থার বিধিনিষেধের কারণে প্রশ্নোত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল উমর খালিদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের মাধ্যমে।
বাংলাস্ফিয়ার: সূর্য ডুবতে শুরু করলেই তাঁর সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। দিনের শেষে যখন দিল্লির তিহার জেলের হাজার হাজার বন্দিকে সেল থেকে বের করে অন্ধকার নামা পর্যন্ত একটি স্যাঁতসেঁতে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তখনই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা জমতে থাকে। বন্দি নম্বর ৬২৬৭১৪-এর কাছে সেই সময়টাই সবচেয়ে কঠিন।
তবে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি এই নম্বরেই পরিচিত নন। তিনি উমর খালিদ—ছাত্রনেতা, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং গত ছয় বছর ধরে বিচার শুরু না হয়েই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বন্দি।
দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে উমর খালিদ বলেন, সম্প্রতি তিনি জানতে পেরেছেন, দেড়শো বছরেরও বেশি আগে রুশ সাহিত্যিক ফিওদর দস্তয়েভস্কি তাঁর কারাজীবনের স্মৃতিকথায় সূর্যাস্তের সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা লিখেছিলেন।
খালিদের কথায়,
“দস্তয়েভস্কিও লিখেছেন, কারাগারে সূর্য ডোবার সময় একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। হয়তো তখনই মনে পড়ে যায়, জীবনের আর একটা দিন বন্দিদশাতেই শেষ হয়ে গেল।”
ছাত্রনেতা থেকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা
আজকের ভারতে এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যাঁরা উমর খালিদের নাম শোনেননি।
গত এক দশকে তিনি প্রথমে ছাত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ২০১৯ সালে কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। সেই আন্দোলন ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বড় জনআন্দোলন।
কিন্তু ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি নাকি দাঙ্গার ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ এবং ‘হিংসাত্মকভাবে সরকার বদলের পরিকল্পনা’ করেছিলেন।
এই অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
‘আমি আর মানুষ নই, শুধু একটি ছবি’
উমর খালিদের কথায়, গত ছয় বছরে তাঁর সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল নিজের মানবিক অস্তিত্বটুকু ধরে রাখা।
তিনি বলেন, “যখন আপনাকে কেবল একটি ছবি বা প্রতীকে পরিণত করে দেওয়া হয়—হয় সম্পূর্ণ খারাপ, নয়তো সম্পূর্ণ নায়ক—তখন নিজের মানবিক সত্তা ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে।”
তাঁর দাবি, সমর্থকেরাও অনেক সময় ভুলে যান যে তিনিও একজন সাধারণ মানুষ।
“আমারও ভয় আছে, দুর্বলতা আছে, ভুল আছে। দীর্ঘ কারাবাস আমার শরীর ও মন—দুটোকেই ভেঙে দিয়েছে।”
‘আমাকে মানুষ হিসেবেও দেখা হয় না’
কারাগারের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, জেলের ভেতরেও প্রচারের প্রভাব পৌঁছে যায়।
“যাদের সঙ্গে একসঙ্গে খাই, তারাও পিছনে আমাকে সন্ত্রাসবাদী বলে। এই প্রচার মানুষকে আমার মানবিক পরিচয়টাই ভুলিয়ে দেয়।”
তারপরই তাঁর সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্য—
“মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াটাও যেন আমাদের মতো মানুষের জন্য এক ধরনের বিশেষ সুবিধা, যা আমাদের দেওয়া হয় না।”
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব
ছয় বছর জেলে থাকার পরেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলে জানান খালিদ।
তাঁর অভিযোগ, ভারতে ঘৃণার ভাষা এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং গণহত্যার ভাষাকে যেভাবে স্বাভাবিক ও গৌরবান্বিত করা হচ্ছে, তা আমাকে আতঙ্কিত করে।”
আরও বলেন, “ভারত প্রায় পুরোপুরি সত্য-উত্তর সমাজে পরিণত হয়েছে। সত্যের চেয়ে প্রচার এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।”
দিল্লির জামিয়া নগরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বড় হয়ে ওঠেন উমর খালিদ। তাঁর কথায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে সমাজ ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং মুসলিমদের প্রতি সন্দেহ, বৈষম্য ও বিদ্বেষ বাড়ছে।
তিনি বলেন, “আমি এমন সময় বড় হয়েছি, যখন মুসলিমদের ক্রমশ প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছিল। একজন সংবেদনশীল মানুষের পক্ষে এসব দেখে চুপ করে থাকা সম্ভব ছিল না।”
এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ছাত্ররাজনীতির দিকে টেনে নিয়ে যায়।
জেএনইউ-তেই জাতীয় পরিচিতি
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)-এ গবেষণা করতে গিয়েই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন উমর খালিদ। সেই সময় জেএনইউ ছিল বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি, মতের স্বাধীনতা ও বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
কিন্তু ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষিণপন্থী রাজনীতিরও অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালে জেএনইউ-র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার হন উমর খালিদ। দেশের একাংশের সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলে প্রচার শুরু করে।
সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সেই মুহূর্ত থেকেই আমার জীবন আর আগের মতো ছিল না।”
তাঁর অভিযোগ, শুধু গ্রেফতারই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর পিএইচডি-র গবেষণাপত্র জমা দেওয়াও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে আদালতের নির্দেশে তিনি গবেষণাপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।
সেই গবেষণাই পরে ‘Fractured Communities’ নামে বই আকারে প্রকাশিত হতে চলেছে।
নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ
২০১৯ সালে কেন্দ্র সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাশ করলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়।
উমর খালিদ সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বক্তা ও সংগঠক হয়ে ওঠেন।
গার্ডিয়ানের সাক্ষাৎকারে তিনি সেই সময়কার একটি বহুল আলোচিত বক্তৃতার কথা স্মরণ করেন।
তিনি জনসভায় বলেছিলেন,
“ওরা যদি হিংসার পথ বেছে নেয়, আমরা হিংসার জবাব হিংসা দিয়ে দেব না। ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে দেব না। ওরা ঘৃণা ছড়ালে আমরা ভালোবাসা ছড়াব।”
এই বক্তব্যই তাঁকে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করে।
তারপর দিল্লি দাঙ্গা
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
তিন দিন ধরে চলা সেই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের অধিকাংশই মুসলিম ছিলেন বলে বিভিন্ন স্বাধীন অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাঙ্গার সময় সামাজিক মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, বহু জায়গায় মসজিদ, মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালানো হয়। কোথাও কোথাও পাল্টা প্রতিরোধও দেখা যায়।
অভিযোগের কেন্দ্রে উমর খালিদ
দাঙ্গার তদন্তে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাদের অভিযোগ, উমর খালিদ এই ঘটনার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী।
কিন্তু খালিদের বক্তব্য, দাঙ্গার সময় তিনি দিল্লিতেই ছিলেন না; ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে ছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি এবং আরও কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতা নাকি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
এই অভিযোগ সম্পর্কে খালিদের মন্তব্য, “এ যেন কোনও ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসের গল্প।”
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার
দাঙ্গার কয়েক মাস পরে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, দিল্লিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে দিল্লি দাঙ্গা-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ জাল করা ও সাক্ষীদের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগও উঠেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং উমর খালিদের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতারের পর ছয় বছর কেটে গেলেও এখনও তাঁর মামলার বিচার শুরু হয়নি। এই দীর্ঘ অপেক্ষাকেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করেন উমর খালিদ।
তিনি বলেন, প্রথমদিকে তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিটা একদিন সামনে আসবেই। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে যেতে থাকলে সেই বিশ্বাসও ক্ষয়ে যেতে শুরু করে।
“বারবার মনে হয়েছে, এবার হয়তো মুক্তি পাব। তারপর আবার শুনানি পিছিয়েছে, বিচারপতি বদলেছেন, আবেদন খারিজ হয়েছে। এভাবে আশা ধীরে ধীরে মরে যেতে থাকে।”
তাঁর কথায়, “আশা যখন আর থাকে না, তখন জেলের জীবনে টিকে থাকা ভীষণ কঠিন হয়ে যায়। মানসিক, শারীরিক এবং আবেগের দিক থেকে মানুষকে তা ভেঙে দেয়।”
বারবার জামিনের আবেদন খারিজ
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্তি পেলেও উমর খালিদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর জামিনের আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হলেও তা পিছিয়েছে, বিচারপতিরা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন অথবা আবেদন খারিজ হয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টির বক্তব্য, এই মামলায় সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। এটি সম্পূর্ণ বিচারব্যবস্থার বিষয় এবং আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বিরোধীদের প্রতি তীব্র হতাশা
শুধু সরকারের বিরুদ্ধেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিও তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন উমর খালিদ।
তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বহু মানবাধিকারকর্মী, ছাত্রনেতা ও সমাজকর্মী দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থেকেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জেলেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রবীণ সমাজকর্মী ফাদার স্ট্যান স্বামী-র কথা, যিনি বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান।
খালিদের বক্তব্য, “ছয় বছর পরে দাঁড়িয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমি ভীষণ হতাশ। অনেক সময় নিজেকে সম্পূর্ণ একা বলে মনে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, এমনকি যাঁরা আন্দোলনের মুখ বলে পরিচিত—তাঁদের অনেকের নীরবতা এই সরকারকে আরও সাহসী করে তুলেছে। যখন প্রতিবাদ থেমে যায়, তখন ক্ষমতাসীনরা আরও সহজে ভিন্নমতকে দমন করতে পারে।”
রাতই তাঁর একমাত্র আশ্রয়
দিনের তুলনায় রাতকে অনেক বেশি শান্ত বলে মনে করেন উমর খালিদ।
সন্ধ্যার পর সেলে ফিরে দরজা বন্ধ হয়ে গেলে এবং প্রহরীদের চাবির শব্দ মিলিয়ে গেলে তিনি কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেন। নিজের সেলের দেওয়ালে তিনি নানা উদ্ধৃতি লিখে রেখেছেন। জেলে বসে লেখা ডায়েরির অনেক বাক্যও সেই দেওয়ালে স্থান পেয়েছে।
দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং-এর একটি ছবিও। তার পাশেই লেখা রয়েছে ভগৎ সিংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি— “আমি সেই উন্মাদ আত্মা, যে বন্দিদশাতেও স্বাধীন।”
খালিদের কথায়, প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই বাক্যগুলিই তাঁকে মানসিক শক্তি জোগায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির উদ্বেগ
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ উমর খালিদের দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, বিচার শুরু না করেই এত দীর্ঘ সময় একজন অভিযুক্তকে কারাগারে রাখা ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে।
অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি বরাবরই দাবি করে এসেছে, ভারতের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন এবং আইন অনুযায়ীই সব প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগও বারবার অস্বীকার করা হয়েছে।
একটি সাক্ষাৎকার, বহু প্রশ্ন
গার্ডিয়ানের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে উমর খালিদ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক বিশ্বাস, কারাজীবনের মানসিক অভিঘাত এবং ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন।
তাঁর সমস্ত বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণ পাঠকের নিজস্ব বিষয়। তবে ছয় বছর ধরে বিচার শুরু না হওয়া, দীর্ঘ বিচারপূর্ব আটক, ভিন্নমত, রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গতি—এই প্রশ্নগুলি যে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে, সেই বাস্তবতাও এই সাক্ষাৎকার নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



