রক্তচাপ ১০০, ১১০ কিংবা ১২০-এর নীচে: মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব?

যা জানা জরুরি
- দীর্ঘ মেয়াদে রক্তচাপ তুলনামূলক কম থাকলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলে বাধাজনিত আক্রমণ এবং ক্ষুদ্র রক্তনালির ক্ষতির ঝুঁকি কমতে পারে।
- তবে রক্তচাপ যত কম হবে, ততই ভাল—এমন ধারণা ঠিক নয়।
- চিকিৎসক শেঠি বলেন, ‘‘দীর্ঘ মেয়াদে রক্তচাপ কম থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালির ক্ষতি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দীর্ঘ মেয়াদে রক্তচাপ তুলনামূলক কম থাকলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলে বাধাজনিত আক্রমণ এবং ক্ষুদ্র রক্তনালির ক্ষতির ঝুঁকি কমতে পারে। তবে রক্তচাপ যত কম হবে, ততই ভাল—এমন ধারণা ঠিক নয়।
রক্তচাপ কখন অতিরিক্ত কম বলে ধরা হবে?
চিকিৎসক শেঠি বলেন, ‘‘দীর্ঘ মেয়াদে রক্তচাপ কম থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালির ক্ষতি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে। কিন্তু রক্তচাপ খুব কম হওয়া সব সময় ভাল নয়।’’
রক্তচাপ অত্যধিক নেমে গেলে মস্তিষ্ক এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছতে না-ও পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা, মাথা হালকা লাগা, ঝাপসা দেখা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে এই উপসর্গগুলি বিশেষভাবে অনুভূত হতে পারে। তবে রক্তচাপের কোনও একটি নির্দিষ্ট মাত্রাকে সবার ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত কম’ বলা যায় না।
শেঠির কথায়, ‘‘উপসর্গ এবং প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।’’ কারও রক্তচাপ বারবার কম পাওয়া গেলে এবং সেই সঙ্গে উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
১২০-এর নীচে রাখাই কি সবার জন্য সঠিক লক্ষ্য?
অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সিস্টোলিক বা রক্তচাপের উপরের মাত্রা ১২০ মিলিমিটার পারদের নীচে থাকা আদর্শ হতে পারে। কিন্তু একে সবার জন্য অভিন্ন লক্ষ্য ধরে নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন শেঠি।
তিনি বলেন, ‘‘রক্তচাপের লক্ষ্য ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষত প্রবীণদের এবং যাঁদের কিডনির রোগ, হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস কিংবা পড়ে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে।’’
কিছু প্রবীণ অথবা শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের রক্তচাপ অতিরিক্ত দ্রুত বা বেশি মাত্রায় নামানোর চেষ্টা করলে মাথা ঘোরা ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্তপ্রবাহও কমে যেতে পারে।
শেঠির বক্তব্য, ‘‘ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, বয়স, ব্যবহৃত ওষুধ এবং শরীর কতটা সহ্য করতে পারছে, তার ভিত্তিতেই সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।’’
উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের কী ক্ষতি করে?
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে উদ্বেগের কারণ কেবল যন্ত্রে ফুটে ওঠা সংখ্যাটি নয়। দীর্ঘ দিন রক্তচাপ বেশি থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তাদের দেওয়াল শক্ত হয়ে যেতে পারে।
শেঠির মতে, এর ফলে স্ট্রোক, স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির অবনতি এবং রক্তনালির সমস্যাজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রক্তচাপ স্বাস্থ্যসম্মত সীমার মধ্যে রাখলে এই রক্তনালিগুলির উপর চাপ কমে এবং দীর্ঘ মেয়াদে মস্তিষ্ক সুরক্ষিত থাকে।
জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে কি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
অবশ্যই। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা শুধু ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেঠির পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমাতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে হবে, নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে, মদ্যপান সীমিত রাখতে হবে এবং তামাক এড়িয়ে চলতে হবে।
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার পরও রক্তচাপ বেশি থাকলে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। যাঁদের হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকি বেশি, অথবা ডায়াবিটিস, কিডনির অসুখ কিংবা আগে থেকেই হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও আগেই ওষুধ শুরু করা হতে পারে।
শেঠি জোর দিয়ে বলেছেন, শুধু একটি সংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্ধারণ করা উচিত নয়। লক্ষ্য কেবল রক্তচাপ যতটা সম্ভব নামিয়ে আনা নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্যসম্মত এবং তাঁর শরীর স্বচ্ছন্দে সহ্য করতে পারে, এমন মাত্রায় রাখা।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে গুগলে বহুল অনুসন্ধান করা বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ‘রক্তচাপ’।
সতর্কীকরণ: এই লেখা প্রকাশ্যে উপলব্ধ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনও নতুন অভ্যাস বা নিয়ম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



