র্বোচ্চ আদালতের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ ‘লঙ্ঘন’ করায় বুধবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে কড়া ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপিত হলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘‘আমরা যেখানে ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে ইতিমধ্যেই মামলাগুলি বাতিল করেছি এবং স্পষ্ট জানিয়েছি, আগেই দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট নোটিস জারি করার সাহস পেলেন কী করে?’’ ওই বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাও ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ছাত্র ত্রিপাঠীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী পি ভি দীনেশ জানান, আদালতের ওই পর্যবেক্ষণের পরে সংশ্লিষ্ট ছাত্রও বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।

আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আইনজীবী বলেন, ‘‘এঁদের কাছে একটা বার্তা যাওয়া প্রয়োজন।’’

প্রধান বিচারপতি জানান, বুধবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনার সময়েই তিনি এ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

এর পর মেহতা আদালতকে জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা উচিত হবে না।’’

নোটিস জারির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের উল্লেখ করেছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির নেতৃত্বে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা ওই নির্দেশে বাতিল করা হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘কোনও ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—নির্দেশটি একেবারেই স্পষ্ট ছিল। ভাষাও অত্যন্ত সহজ। এমনকি সাধারণ মানুষও তা বুঝতে পারবেন। কোনও কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলাশাসক ওই নির্দেশ লঙ্ঘন করতে পারেন না।’’

নিজের আবেদনে ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, তিনি এসএফআইয়ের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য কমিটির সদস্য। গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন গ্রেটার নয়ডার তৃতীয় কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ওই নোটিস দেন। অভিযোগ ছিল, ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত একটি ধরনায় যোগ দিতে তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের ‘উসকানি’ দিচ্ছিলেন।

নোটিসে তাঁকে কারণ দর্শাতে বলা হয়—ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৩৫ ধারায় পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা এবং একই অঙ্কের অর্থের জন্য দু’জন জামিনদার দেওয়ার শর্তে কেন তাঁকে আবদ্ধ করা হবে না।

ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে পূর্ব-সংশ্লিষ্টতার কারণে যে ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশকে এফআইআর দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, তিনি সেই ব্যতিক্রমী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নন।

তাঁর বক্তব্য, ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের তিন দিন পরে এই নোটিস জারি করা হয়। অথচ সেখানে তাঁর কোনও নির্দিষ্ট কাজ, ঘটনার দিনক্ষণ, বক্তব্য কিংবা আসন্ন হিংসার আশঙ্কা নির্দেশ করে এমন কোনও ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি।

আবেদনে ত্রিপাঠী বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘সরকারবিরোধী বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা ছড়ানো’ এবং একটি প্রস্তাবিত ধরনায় ছাত্রছাত্রীদের যোগ দিতে ‘উসকানি’ দেওয়ার অস্পষ্ট, প্রমাণহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিসটি দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই ধরনা যে শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা, তা নিয়েও কোনও বিরোধ ছিল না।

তাঁর যুক্তি, শান্তিপূর্ণ জমায়েতে উৎসাহ দেওয়া এবং সাংবিধানিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত মতপ্রকাশের জন্যই একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে এমন কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংবিধানের ১৪, ১৯(১)(ক), ১৯(১)(খ) এবং ২১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের বাধ্যতামূলক বিধানেরও সরাসরি পরিপন্থী।

ত্রিপাঠী আরও জানিয়েছেন, নোটিসে তাঁকে পরের দিনই, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাজির হতে বলা হয়েছিল। ফলে আইনজীবী নিয়োগ, অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থের জন্য জামিনদারের ব্যবস্থা এবং নিজের বক্তব্য প্রস্তুত করার জন্য তিনি কার্যত মাত্র এক দিন সময় পেয়েছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, এত অল্প সময় দেওয়া স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। এমনকি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কিংবা শান্তিরক্ষার নিশ্চয়তা আদায়ের প্রক্রিয়াতেও আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়ার যে প্রয়োজন রয়েছে, এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।