হাইলাইটস

  • ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।
  • প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১ এবং দ্বিতীয়টি ছিল আরও শক্তিশালী, ৭.৫।
  • রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক শহরে বহুতল ভবন, সেতু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
  • ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা।
  • সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে সেনা, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকদের মোতায়েন করেছে।
  • বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এটি গত একশো বছরে দেশের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প।

বাংলাস্ফিয়ার: ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.১ এবং তার পরেই আসে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী কম্পন। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি প্রবল ভূমিকম্প আঘাত হানায় বহু ভবন মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে। রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক শহরে আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মোরোন এলাকার পশ্চিমে। দ্বিতীয় কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল মোরোনের দক্ষিণ-পশ্চিমে, যা ছিল আরও অগভীর। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি ধ্বংসাত্মক হয়। ফলে দ্বিতীয় কম্পনের অভিঘাত ছিল অত্যন্ত তীব্র এবং বহু এলাকায় ভবন ধসে পড়ে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে রাজধানী কারাকাসে। বহু বহুতল আবাসন, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, বিপণিবিতান ও সরকারি দপ্তরে ফাটল ধরেছে বা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বহু সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে সমস্যায় পড়ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও একাধিক জায়গায় ভেঙে পড়েছে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ আটকে থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই ভারী যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানকারী কুকুর এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ফাঁক থেকে জীবিতদের বের করে আনার জন্য রাতভর অভিযান চলছে। অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারাও খালি হাতে উদ্ধারকাজে নেমেছেন।

সরকার এখনও মৃত ও আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছতে পারে। হাসপাতালে আহতদের ঢল নামায় চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবল চাপে পড়েছে। বহু হাসপাতাল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির তৈরি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরে একাধিক পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলিতে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কায় বহু জায়গায় অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন আরও মাঝারি বা শক্তিশালী পরাঘাত হতে পারে। তাই মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের একযোগে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ করতেও সরকার প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ, প্রতিবেশী দেশগুলি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী, অস্থায়ী আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পের পরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জীবিতদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এত শক্তিশালী জোড়া কম্পন বিরল ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ততই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসবে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।