ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ৪১ জন। শতাধিক উদ্ধারকর্মী, নৌবাহিনী এবং আশপাশের জাহাজগুলিকে সঙ্গে নিয়ে জোরকদমে চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
রবিবার সকালে পূর্ব জাভার সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল কেএমপি মুতিয়ারা সেন্টোসা–২ (KMP Mutiara Sentosa 2)। ফেরিটিতে ছিলেন মোট ২৭১ জন—২৩২ জন যাত্রী এবং ৩৯ জন নাবিক ও কর্মী। সঙ্গে ছিল প্রায় ১৮১টি যানবাহন।
মাদুরা দ্বীপের উত্তর উপকূলের কাছে পৌঁছতেই আচমকা ফেরিতে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিচের ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকেই সম্ভবত আগুনের সূত্রপাত। প্রবল বাতাসে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ফেরির একাধিক অংশে।
আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন যাত্রীরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ফেরির সামনের দিকে জড়ো হন। আবার কেউ কেউ লাইফ জ্যাকেট পরে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফেরি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আতঙ্কিত যাত্রীদেরও উদ্ধার পাওয়ার অপেক্ষায় মরিয়া অবস্থায় দেখা গেছে।
শতাধিক উদ্ধারকর্মীর তল্লাশি
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২২৫ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, টাগবোট এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিও যোগ দিয়েছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে তল্লাশি।
কীভাবে ফেরিটিতে আগুন লাগল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ট্রাক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা সামনে এলেও তা এখনও নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
১৯৯২ সালে জাপানে নির্মিত হয়েছিল KMP Mutiara Sentosa 2। দীর্ঘদিন ধরে সুরাবায়া–মাকাসার রুটে নিয়মিত চলাচল করছিল ফেরিটি।
ফেরি নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সমুদ্রপথে যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে নৌ-নিরাপত্তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে।
নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে না মানা, পুরনো জাহাজ ব্যবহার এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে দেশটিতে অতীতেও একাধিক বড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জাভার উপকূলে এই অগ্নিকাণ্ড তাই শুধু উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ নয়—ইন্দোনেশিয়ার যাত্রীবাহী ফেরিগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিল।