কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন সফল হওয়ার পরে এ বার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রকে নিশানা করল অভিজিৎ দীপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। দিল্লিতে বার কাউন্সিলের দফতরের সামনে আইনজীবীদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দীপকের বার্তা—“মনন, খেলা শেষ ভাই! সমস্ত আইনি ককরোচকে এই আন্দোলনে যোগ দিতে হবে।”

আনুষ্ঠানিক ভাবে বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল অল ইন্ডিয়া ইয়ং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের দাবি, এই আন্দোলন কেবল মনন মিশ্রের সঙ্গে আইন শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সংঘাত ঘিরে নয়; দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বার কাউন্সিলের ব্যর্থতার বিরুদ্ধেই তাঁদের প্রতিবাদ। তবে দীপকের ঘোষণার পরে আন্দোলন ঘিরে সিজেপির রাজনৈতিক উপস্থিতিই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ করে জানান, মননের অবিলম্বে ইস্তফার দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রতিবাদীরা। এর আগের দিন বম্বে বার অ্যাসোসিয়েশনও প্রস্তাব গ্রহণ করে বার কাউন্সিল প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিল।

বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আইনজীবী রমন শর্মা অবশ্য আন্দোলনটির স্বতন্ত্র চরিত্রের উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সিজেপি সমর্থন জানালে আপত্তি নেই, কিন্তু এটি মূলত দেশের সর্বোচ্চ আইনজীবী নিয়ামক সংস্থার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের নিজস্ব আন্দোলন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বছর ধরে চেয়ারম্যানের পদে থেকেও মনন আইনজীবীদের জন্য কী করেছেন? দেশের থানাগুলিতে আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফৌজদারি আইনচর্চার ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া এবং নবীন আইনজীবীদের সমস্যার মতো বিষয়ে বার কাউন্সিল কার্যত নীরব থেকেছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

মননকে ঘিরে বর্তমান ক্ষোভের সূত্রপাত নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন-বিতর্ক থেকে। প্রধান বিচারপতির কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে তাঁকে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি হিসেবে না-চাওয়ার পরে মনন ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের নালসার স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে দেওয়া হবে না। তাঁর এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনীরা। চার শতাধিক প্রাক্তনী খোলা চিঠিতে বলেন, এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কোনও এক্তিয়ার বার কাউন্সিল সভাপতির নেই। তাঁর অবস্থান শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও অভিযোগ ওঠে।

প্রধান বিচারপতিও আদালতে মননের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। বিষয়টি তাঁর এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আলোচনা—বার কাউন্সিল সেখানে হস্তক্ষেপ করার কে?

এর পরেই সাতশোর বেশি সদস্যের তিনটি আইনজীবী সংগঠন মননের পদত্যাগ দাবি করে। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নালসার স্নাতকদের নথিভুক্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চান মনন। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ থামেনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরে সিজেপি এখন বার কাউন্সিল প্রধানের উপর চাপ বাড়ানোয়, মনন মিশ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেল।