খবর

স্কুলে তামাকবিরোধী কড়া অভিযান, ছ’মাস অন্তর অডিট ও পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক পশ্চিমবঙ্গে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কলকাতা: অল্প বয়সেই তামাকাসক্তি রুখতে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া তামাকবিরোধী অভিযান শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করে স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলক স্ব-মূল্যায়ন, তামাকাসক্ত পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং, সচেতনতা কর্মসূচি এবং বিশেষ পরিদর্শন দলের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা চালু…
  • এই উদ্যোগ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (NTCP) আওতায় ‘টোব্যাকো-ফ্রি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন’ (ToFEI) প্রকল্পের অংশ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কলকাতা: অল্প বয়সেই তামাকাসক্তি রুখতে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কড়া তামাকবিরোধী অভিযান শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করে স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলক স্ব-মূল্যায়ন, তামাকাসক্ত পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং, সচেতনতা কর্মসূচি এবং বিশেষ পরিদর্শন দলের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা চালু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এই উদ্যোগ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (NTCP) আওতায় ‘টোব্যাকো-ফ্রি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন’ (ToFEI) প্রকল্পের অংশ।

নতুন এসওপি অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলকে প্রতি ছ’মাস অন্তর ১০০ নম্বরের স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। অন্তত ৯০ শতাংশ নম্বর পেলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘তামাকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। মূল্যায়নে ক্যাম্পাসে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সতর্কীকরণ বোর্ড, অভিযোগ ব্যবস্থা এবং আইন মেনে চলার মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।

শুধু সচেতনতা নয়, তামাকের নেশায় জড়িয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করারও নির্দেশ রয়েছে। এই কর্মসূচিকে স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে চালানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে অল্প বয়সেই নেশার প্রবণতা রোধ করা যায়।

নিয়ম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি ব্লকে বিশেষ পরিদর্শন দল গঠন করা হবে। এই দলে থাকবেন রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচির (RBSK) চিকিৎসক, স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, ‘অন্বেষা’ কাউন্সেলর এবং ব্লক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক। তাঁরা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পরিদর্শন করবেন এবং নির্দেশিকা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে রয়েছে গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে (২০১৯)-এর তথ্য। ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ভারতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় ৮.৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরী কোনও না কোনও ধরনের তামাক ব্যবহার করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহারকারীর নেশার শুরু ২০ বছরের আগেই হয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার।

স্বাস্থ্য দফতরের আশা, নিয়মিত অডিট, পরিদর্শন, সচেতনতা এবং কাউন্সেলিংয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকাসক্তির ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা যাবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles