রোজকার রঙ্গ

এমুর স্বাধীনতা সফর: আকাশে ড্রোন, রাস্তায় পুলিশ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নিউ ইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে শনিবার সকালে পুলিশের কাছে এমন একটি খবর এল, যার জন্য সাধারণ প্রশিক্ষণপুস্তকে আলাদা অধ্যায় থাকার সম্ভাবনা কম—একটি এমু পোষ্যপ্রাণী প্রদর্শনকেন্দ্র…
  • পাখিটি উড়তে পারে না, কিন্তু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।
  • ফলে তাকে ফেরানোর দায়িত্ব মোটেই ‘মুরগি ধরার’ সহজ সংস্করণ ছিল না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নিউ ইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে শনিবার সকালে পুলিশের কাছে এমন একটি খবর এল, যার জন্য সাধারণ প্রশিক্ষণপুস্তকে আলাদা অধ্যায় থাকার সম্ভাবনা কম—একটি এমু পোষ্যপ্রাণী প্রদর্শনকেন্দ্র থেকে পালিয়েছে। পাখিটি উড়তে পারে না, কিন্তু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। ফলে তাকে ফেরানোর দায়িত্ব মোটেই ‘মুরগি ধরার’ সহজ সংস্করণ ছিল না।

রামাপো পুলিশ জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ন’টার কিছু আগে খবর আসে। অফিসারেরা গিয়ে পাখিটিকে দেখতে পেলেও তাকে থামানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমু সোজা পথে দৌড়তেই বাধ্য নয়; লম্বা পা, দ্রুত বাঁক নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানুষের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার পূর্ণ স্বাধীনতা তার আছে।

পুলিশ তাদের ‘ড্রোন অ্যাজ ফার্স্ট রেসপন্ডার’ ব্যবস্থা কাজে লাগায়। আকাশ থেকে ক্যামেরায় পাখিটির চলাচল অনুসরণ করা হয়, আর নিচে কয়েকজন অফিসার তাকে নিরাপদ দিকে ঘিরে আনেন। শেষ পর্যন্ত সার্জেন্ট অ্যান্টন এবং তাঁর সহকর্মীরা এমুটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রদর্শনকেন্দ্রে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হন।

ঘটনাটি ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে। বিবৃতিতে ‘পালকওয়ালা পলাতক’ এবং ‘অনুমতিহীন রামাপো সফর’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, কোনও মানুষ বা প্রাণী আহত হয়নি, কাউকে জরিমানাও করা হয়নি। এমুর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে পালানোর পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য অভিযুক্ত নীরব।

এমু অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পাখি এবং উটপাখির পরে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক এমুর উচ্চতা প্রায় ছ’ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ডানা থাকলেও উড়তে পারে না; আত্মরক্ষায় শক্তিশালী পা ব্যবহার করে। আতঙ্কিত এমুকে কোণঠাসা করার চেষ্টা তাই প্রাণী ও মানুষের উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ড্রোন ব্যবহারের কারণও এখানেই। বড় পাখিটির পিছু নিয়ে দ্রুত গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ত। উপর থেকে অবস্থান দেখে ধীরে ধীরে পথ আটকে দেওয়া তুলনায় নিরাপদ। প্রযুক্তিটি সাধারণত হারানো মানুষ খোঁজা, দুর্ঘটনাস্থল দেখা কিংবা বিপজ্জনক এলাকায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়; এ বার তার পর্দায় ছিল এক অস্ট্রেলীয় পথচারী।

পশু পালানোর খবর মজার হলেও পোষ্যপ্রাণী প্রদর্শনকেন্দ্রের নিরাপত্তা হালকা বিষয় নয়। অপরিচিত পরিবেশে প্রাণী আতঙ্কিত হয়; রাস্তা পার হলে যানবাহন ও পথচারীরও বিপদ ঘটে। পাখিটি কীভাবে বেরোল এবং ঘেরার ব্যবস্থায় দুর্বলতা ছিল কি না, কর্তৃপক্ষের তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলেই পুলিশের রসিক ভাষা মানিয়েছে। কেউ আহত হলে একই শব্দ নিষ্ঠুর শোনাত। রামাপোর অভিযানে ফলাফলটি আদর্শ: আধুনিক ড্রোন, কয়েকজন ধৈর্যশীল পুলিশ এবং শেষ পর্যন্ত এমন এক পলাতক, যার নামে মামলা নয়—শুধু বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles