ডিমভাজার কড়াইয়ে শক্তিবর্ধক পানীয়: কলকাতার নতুন স্ট্রিট ফুড

যা জানা জরুরি
- কলকাতার স্ট্রিট ফুডে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাব কখনও ছিল না।
- কিন্তু ডিমভাজার কড়াইয়ে একটি গোটা বোতল গোলাপি শক্তিবর্ধক পানীয় ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।
- ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দুই দক্ষিণ কোরিয়ার ভ্রমণ-ভিডিয়ো নির্মাতাকে কলকাতার ওই ‘এনার্জি স্ক্র্যাম্বলড এগ’ চেখে দেখতে দেখা যায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতার স্ট্রিট ফুডে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাব কখনও ছিল না। কিন্তু ডিমভাজার কড়াইয়ে একটি গোটা বোতল গোলাপি শক্তিবর্ধক পানীয় ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দুই দক্ষিণ কোরিয়ার ভ্রমণ-ভিডিয়ো নির্মাতাকে কলকাতার ওই ‘এনার্জি স্ক্র্যাম্বলড এগ’ চেখে দেখতে দেখা যায়।
বিক্রেতা প্রথমে বোতলটি ঝাঁকিয়ে গরম তাওয়ায় ঢেলে দেন। পানীয়টির জলীয় অংশ ফুটে কিছুটা কমে এলে তার মধ্যে ডিম, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা ও ধনেপাতা যোগ করা হয়। পরিচিত ডিমভাজার উপকরণগুলির সঙ্গে মিষ্টি, টক এবং কৃত্রিম ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়ের এই মিলনই খাবারটির প্রধান আকর্ষণ।
ভিডিয়োর হিসাবে পদটির দাম প্রায় ৩৮৩ টাকা। কলকাতার সাধারণ রাস্তার ডিমভাজার তুলনায় তা অনেক বেশি। তবে ক্রেতা এখানে শুধু ডিম কিনছেন না; অপ্রত্যাশিত উপাদান, প্রস্তুতির নাটক এবং পর্দায় ভাগ করে নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতারও দাম দিচ্ছেন।
কোরিয়ান দুই অতিথির প্রতিক্রিয়াই ভিডিওটির কেন্দ্র। তাঁরা প্রস্তুতি দেখে বিস্মিত হন এবং শেষ পর্যন্ত খাবারটি চেখে দেখেন। তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দকে অবশ্য খাবারের নিরাপত্তা বা মানের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলা যাবে না। একটি ভিডিও জনপ্রিয় হওয়া এবং কোনও পদ নিয়মিত খাওয়ার উপযোগী হওয়া আলাদা বিষয়।
শক্তিবর্ধক পানীয় সাধারণত ক্যাফিন, চিনি, অম্লতা-নিয়ন্ত্রক এবং স্বাদবর্ধক উপাদান বহন করে। গরম করলে ক্যাফিন হঠাৎ বিষাক্ত হয়ে যায়—এমন দাবি করার ভিত্তি নেই। কিন্তু তাপে স্বাদ বদলাতে পারে, জল উবে যাওয়ায় চিনি ও অন্য দ্রবীভূত উপাদানের ঘনত্ব বাড়তে পারে। তার সঙ্গে তেল, নুন ও ডিম যোগ হলে পদটি পুষ্টিকর প্রাতরাশের চেয়ে প্রদর্শনমূলক খাবারেই বেশি মানায়।
রাস্তার খাবারের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন উপাদানের অভিনবত্ব নয়, পরিচ্ছন্নতা। ডিম ঠিকমতো সিদ্ধ হয়েছে কি না, রান্নার জায়গা পরিষ্কার কি না, পানীয়ের বোতল বৈধ ও মেয়াদের মধ্যে কি না এবং ব্যবহৃত তেল কত পুরনো—এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক মাধ্যম স্ট্রিট ফুডকে বদলে দিয়েছে। আগে বিক্রেতার সাফল্য নির্ভর করত স্থানীয় ক্রেতা আবার আসছেন কি না; এখন একটি অদ্ভুত পদ লক্ষ মানুষের পর্দায় পৌঁছতে পারে। স্বাদ মাঝারি হলেও দৃশ্যটি যদি চমকপ্রদ হয়, ব্যবসার বিজ্ঞাপন হয়ে যায়।
কলকাতার খাদ্যসংস্কৃতির শক্তি তার গ্রহণ ও বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু সব নতুন সংমিশ্রণ ঐতিহ্য হয়ে ওঠে না। কোনওটি এক দিনের ভিডিও, কোনওটি টিকে যায়। শক্তিবর্ধক পানীয়ের ডিমভাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত; আপাতত নিশ্চিত শুধু এটুকু—কড়াইটি দর্শকের ঘুম বেশ সফলভাবে ভেঙেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



