মোদকের ভিতরে নারকেল, গুড়, খোয়া বা শুকনো ফল থাকলে বাঙালি পাঠকের বিশেষ আপত্তি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নাসিকের একটি মিষ্টির দোকান এ বছর মোদকের গায়ে ২৪ ক্যারেটের ভোজ্য সোনার পাত বসিয়ে কেজিপ্রতি দাম রেখেছে ২৭ হাজার টাকা। ফলে গণেশ চতুর্থীর নিবেদ্য একই সঙ্গে মিষ্টি, অলংকার এবং উৎসবের বাজারদরের সূচক হয়ে উঠেছে।

নাসিকের বিদ্যা বিকাশ সার্কেলের সাগর সুইটস এই ‘গোল্ডেন মোদক’ তৈরি করেছে। দোকানটি পঁচিশটির বেশি ধরনের মোদক বিক্রি করছে। সাধারণ মোদকের পাশাপাশি সোনার পাত দেওয়া সংস্করণটির দামই সবচেয়ে বেশি।

ভোজ্য সোনার পাত ভারতীয় মিষ্টিতে একেবারে নতুন নয়। বিশেষ অনুষ্ঠান, বিয়ে এবং বিলাসবহুল উপহারে তা বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। রুপোর তবক সাধারণ; সোনার পাত তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। পাতটি এতই পাতলা যে একটি মিষ্টিতে ব্যবহৃত সোনার প্রকৃত ওজন সামান্য, কিন্তু কাঁচামাল, প্রস্তুতির ঝুঁকি ও বিলাসপণ্যের মূল্য—সব মিলিয়ে দাম দ্রুত বাড়ে।

এই মিষ্টির পুষ্টিগুণ সোনার কারণে বিশেষ বাড়ে না। বিশুদ্ধ ভোজ্য সোনা শরীর সাধারণত শোষণ করে না; মূলত সৌন্দর্য ও মর্যাদার চিহ্ন হিসেবেই তার ব্যবহার। অতএব ২৭ হাজার টাকা দিয়ে ক্রেতা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য নয়, বিরলত্ব এবং প্রদর্শনযোগ্যতা কিনছেন।

এখানেই ঘটনাটির মৃদু কৌতুক। মোদক দেবতার নিবেদ্য, আবার সেই নিবেদ্যের বাজারেও সবচেয়ে দামি পণ্যটি সবচেয়ে বেশি ছবি তোলে। একটি মিষ্টি খাওয়ার আগে তার সঙ্গে আলোকচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও এবং দাম উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট—সব মিলিয়ে নতুন ভোগপদ্ধতি তৈরি হয়েছে। জিভের আগে অনেক সময় পর্দাই স্বাদ নেয়।

তবে সোনালি রং দেখলেই সত্যিকারের সোনা ধরে নেওয়া উচিত নয়। ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী খাবারের উপাদান, মান ও অনুমোদিত সংযোজক সম্পর্কে বিক্রেতার স্পষ্ট তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। দামি মিষ্টি কিনলে বিল নেওয়া, উৎপাদনের তারিখ দেখা এবং পাতটি ভোজ্য মানের কি না জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

উৎসবের বাজারে নতুনত্বের প্রতিযোগিতা এখন কেবল স্বাদে আটকে নেই। চকোলেট, বিদেশি বাদাম, বিশেষ বাক্স এবং মূল্যবান ধাতুর পাত—সবই মিষ্টিকে উপহারযোগ্য বিলাসপণ্যে বদলে দিচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসার আয় বাড়তে পারে, কিন্তু বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য যেন খাদ্যের মানের জায়গা না নেয়।

২৭ হাজার টাকার মোদক সমাজের অধিকাংশ মানুষের কেনাকাটার তালিকায় থাকবে না। তার কাজ অন্য—দোকানের নাম ছড়িয়ে দেওয়া। বিপণনের হিসাবে সোনার পাতের চেয়েও দামি বস্তু হল মানুষের কৌতূহল। নাসিকের দোকানটি আপাতত সেই কৌতূহল বেশ সফলভাবেই মুড়ে বিক্রি করেছে।