আলমারিতে আসামি, বাইরে চালু ওয়াই-ফাই: প্রযুক্তিই ধরিয়ে দিল মাদক কারবারিকে

যা জানা জরুরি
- ব্রিটেনের এক মাদক কারবারি পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখতে ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন।
- পরিকল্পনাটি মন্দ ছিল না; গোল বাধাল তাঁর মুঠোফোনের অতিরিক্ত ভদ্রতা।
- যন্ত্রটি পরিচিত একটি উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক দেখেই নিজে থেকে জুড়ে গেল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ব্রিটেনের এক মাদক কারবারি পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখতে ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন। পরিকল্পনাটি মন্দ ছিল না; গোল বাধাল তাঁর মুঠোফোনের অতিরিক্ত ভদ্রতা। যন্ত্রটি পরিচিত একটি উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক দেখেই নিজে থেকে জুড়ে গেল। সেই সামান্য ডিজিটাল পদচিহ্ন অনুসরণ করে পুলিশ পৌঁছে গেল লন্ডনের ওয়েম্বলির একটি বাড়িতে। সেখানে আলমারির ভিতর লুকিয়ে ছিলেন ৩৪ বছরের জোয়েল লুইস।
ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর। লন্ডন পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছিল উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহকারী ‘ববি’ নামের একটি মাদক-বিক্রয় চক্রকে ঘিরে। মাদক পাচারে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে কয়েকটি ফোন পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা ওই চক্রের যোগাযোগব্যবস্থা শনাক্ত করেন।
পুলিশের দাবি, লুইস নিজের প্রকৃত অবস্থান আড়াল করতে ফোনে ভিপিএন চালু রাখতেন। তাতে ইন্টারনেট সংযোগের উৎস সহজে বোঝা যায় না। কিন্তু একটি পরিচিত উন্মুক্ত নেটওয়ার্কের কাছে আসতেই তাঁর ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। সেই সংযোগ থেকে পাওয়া তথ্য অন্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে পুলিশ ঠিকানা চিহ্নিত করে।
৭ জুলাই সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ ঢোকার পরে লুইস আলমারিতে আশ্রয় নেন। শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ার পরে তাঁর প্রথম বিস্ময় ছিল, পুলিশ তাঁকে খুঁজে পেল কী করে। প্রশ্নটি অযৌক্তিক নয়—গোপনীয়তার ব্যবস্থা তাঁর ছিল, শুধু ফোনটির পুরনো পরিচয় ভুলে যাওয়ার অভ্যাস ছিল না।
তল্লাশিতে প্রায় ৮,৮০০ পাউন্ড মূল্যের মাদক, আট হাজার পাউন্ড নগদ, ছ’টি ফোন, একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি ছুরি পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে ওই মাদক-ফোনে দিনে একশোর বেশি কল আসত এবং প্রায় ২৫০ জন নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন।
হ্যারো ক্রাউন কোর্ট লুইসকে ১২ বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। মাদক ও অস্ত্রের অপরাধই দণ্ডের কারণ; ওয়াই-ফাই সংযোগটি ছিল তদন্তের সূত্রমাত্র। প্রযুক্তিগত ভুল করলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না, আবার প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই অপরাধীর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তাও মেলে না।
ঘটনার হাস্যরস আসামির আলমারিতে লুকোনোর মধ্যে যতটা, তার চেয়ে বেশি মানুষের যন্ত্রনির্ভর আত্মবিশ্বাসে। আমরা সুবিধার জন্য ফোনকে বলি পরিচিত নেটওয়ার্ক মনে রাখতে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে এবং অবস্থানভিত্তিক পরিষেবা দিতে। সেই সুবিধাই তথ্যের ছোট ছোট ছাপ রেখে যায়।
সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেও ঘটনাটি সতর্কবার্তা। উন্মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ে ফোনের স্বয়ংক্রিয় সংযোগ বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় পুরনো নেটওয়ার্ক মুছে দেওয়া এবং সংবেদনশীল লেনদেনে জনসাধারণের নেটওয়ার্ক এড়িয়ে চলা নিরাপদ। লুইসের ক্ষেত্রে ফোনটি পুলিশের সহায়ক হয়েছে; নিরপরাধ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে একই অসাবধানতা প্রতারক বা তথ্যচোরের সুবিধা করে দিতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



