বিধায়ক না হয়েও ছয় মাসের বেশি মন্ত্রী কেন? বিহার সরকারকে তীব্র প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

যা জানা জরুরি
- বিহারের পঞ্চায়েত রাজমন্ত্রী দীপক প্রকাশ নির্বাচিত বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন, তা…
- বৃহস্পতিবার শুনানিতে আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলে, সংবিধানে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরও তিনি কীভাবে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির সময় মন্তব্য করে, সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হয়েও সর্বোচ্চ…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বিহারের পঞ্চায়েত রাজমন্ত্রী দীপক প্রকাশ নির্বাচিত বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে বিহার সরকারের কাছে কড়া জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানিতে আদালত সরাসরি প্রশ্ন তোলে, সংবিধানে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরও তিনি কীভাবে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির সময় মন্তব্য করে, সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হয়েও সর্বোচ্চ ছয় মাস মন্ত্রী থাকতে পারেন। ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে অবশ্যই রাজ্যের আইনসভার কোনও একটি কক্ষের সদস্য হতে হবে। তা না হলে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়। আদালত জানতে চায়, এই সাংবিধানিক বিধান থাকা সত্ত্বেও দীপক প্রকাশ কীভাবে দায়িত্বে বহাল আছেন।
মামলাটি দায়ের করেছেন সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সিং। তাঁর অভিযোগ, দীপক প্রকাশকে প্রথমে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর মন্ত্রী করা হয়েছিল, যদিও তিনি তখনও কোনও কক্ষের সদস্য ছিলেন না। ছয় মাসের সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি নির্বাচিত হননি। এরপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময় তাঁকে ফের একই পদে নিয়োগ করা হয়, যা আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী সংবিধানের উদ্দেশ্য ও বিধানকে পাশ কাটানোর শামিল।
এর আগে জুন মাসে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বিহার সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দীপক প্রকাশের কাছে নোটিস জারি করেছিল। এবার শুনানিতে আদালত আরও কঠোর অবস্থান নেয় এবং বিহার সরকারকে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়।
আবেদনকারীর বক্তব্য, সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হল একজন অ-নির্বাচিত ব্যক্তিকে সীমিত সময়ের জন্য মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দেওয়া, যাতে তিনি পরে জনগণের রায় নিয়ে আইনসভার সদস্য হতে পারেন। কিন্তু বারবার পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে সেই ছয় মাসের সীমাবদ্ধতাকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হলে তা সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিপন্থী হবে।
এই মামলার রায় শুধু বিহারের জন্য নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যেও অ-নির্বাচিত ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত। আপাতত বিহার সরকারের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



