খবর

ঘুষ না পেয়ে জমি হাতানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশকর্তা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোপাল: এক সময় বিমানসেবিকার চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি।
  • পরে মধ্যপ্রদেশ লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ।
  • কর্মজীবনে মহিলাদের জন্য ভ্রাম্যমাণ থানার মতো উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোপাল: এক সময় বিমানসেবিকার চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি। পরে মধ্যপ্রদেশ লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ। কর্মজীবনে মহিলাদের জন্য ভ্রাম্যমাণ থানার মতো উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন। সেই পুলিশকর্তা নেহা পাচিসিয়াই এ বার গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায়। অভিযোগ, খুনের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১৫ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা না পেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা মূল্যের জমি মাত্র ১৮.২০ লক্ষ টাকায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কিনিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নেহাকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।

কাটনির নগর পুলিশ অধীক্ষক পদে কর্মরত নেহার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং সরকারি পদের অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই মামলায় মারুফ আহমেদ হানাফি এবং ক্ষিতিজ রাজ বারাপাত্রে নামে আরও দু’জনের নাম রয়েছে। মামলা দায়েরের পর নেহার দফতরও সিল করে দেওয়া হয়েছে।

জবলপুর রেঞ্জের মহাপরিদর্শক প্রমোদ বর্মা জানিয়েছেন, একটি খুনের মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন নেহা। অভিযোগ, মামলায় অভিযুক্তকে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর পরিবারের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরিবারটি সেই টাকা দিতে না পারায় তাঁদের জমি নেহার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির নামে লিখিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তাঁর বক্তব্য, কাটনির ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি, গাফিলতি বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বরদাস্ত করা হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুনের মামলা, তার পরেই জমির চাপ

ঘটনার সূত্রপাত আকাশ লোধি নামে এক ব্যক্তির গ্রেফতারিকে ঘিরে। এক আদিবাসী ব্যক্তিকে খুনের মামলায় গত এপ্রিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জুলাইয়ে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মামলা থেকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং আদালতে সাক্ষ্য বদলের পথ তৈরি করার বিনিময়ে নেহা ও তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁদের কাছে টাকা চেয়েছিলেন।

সেই দাবি পূরণ করতে না পারায় কানহওয়ারায় থাকা ২.১৫ হেক্টর জমি বিক্রির জন্য পরিবারটির উপর চাপ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে জমিটি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

৮২ লক্ষের জমি, দাম মাত্র ১৮.২০ লক্ষ

তদন্তে জমিটির সরকারি নির্দেশক মূল্য এবং বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড়সড় ফারাক সামনে এসেছে। জমিটির নির্দেশক মূল্য ছিল ৮২ লক্ষ টাকারও বেশি। অথচ বিক্রয় দলিলে দাম দেখানো হয় মাত্র ১৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা

তদন্তকারীদের অভিযোগ, পুলিশের চাপের কারণেই এত কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল পরিবারটি। দলিলে ক্রেতা হিসেবে মারুফ আহমেদ হানাফির নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি প্রকৃত ক্রেতা নন; অন্য কারও হয়ে সামনে থেকে জমিটি কিনেছিলেন। এত বড় সম্পত্তি কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে হানাফির ব্যাঙ্ক হিসাব খতিয়ে দেখে। ১৫ এপ্রিল তাঁর নামে জমিটি নথিভুক্ত হয়। সেই দিনই তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ১৫ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ‘শাইন পার্টনার্স’ নামে একটি সংস্থা থেকে আসে ১০ লক্ষ টাকা। বাকি ৫ লক্ষ টাকা পাঠান ক্ষিতিজ রাজ বারাপাত্রে।

জমি হস্তান্তরের দিনেই এই বিপুল অর্থের লেনদেন কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। টাকা, জমির রেজিস্ট্রি এবং নেহার সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের মধ্যে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায়।

আগেও উঠেছিল টাকার অভিযোগ

চলতি বছরে নেহার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এই প্রথম নয়। জুলাইয়ে গাড়ি পরীক্ষার সময় এক পরিবহণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর তাঁর গাড়িচালককে বরখাস্ত করা হয়। তিনটি থানার দায়িত্ব থেকেও নেহাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ বার অবশ্য অভিযোগ আরও গুরুতর। জবলপুর রেঞ্জের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দশ জনেরও বেশি ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েছেন। নেহাও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

নেহা, হানাফি ও বারাপাত্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। মূল্যবান নথি জাল করা, মিথ্যা বিবৃতি ও ঘোষণা, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচনা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশংসিত পুলিশকর্তা থেকে অভিযুক্ত

নেহার কর্মজীবনের শুরুটা অবশ্য ছিল সম্পূর্ণ অন্য রকম। বিমান পরিবহণের চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেন তিনি। মধ্যপ্রদেশ লোকসেবা কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে পুলিশে যোগ দেওয়ার পরে খান্ডোয়া, গুনা-সহ একাধিক জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।

গুনার নগর পুলিশ অধীক্ষক থাকার সময় তিনটি থানায় মহিলাদের জন্য ভ্রাম্যমাণ থানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, মহিলাদের যাতে ছোটখাটো সমস্যা ও বিরোধের সমাধানের জন্য দূরের থানায় ছুটতে না হয় এবং বাড়ির কাছাকাছি পরিষেবা পাওয়া যায়।

সেই প্রশংসিত ভাবমূর্তির সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের তীব্র বৈপরীত্যই নেহাকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জমি হস্তান্তরের প্রকৃত উদ্দেশ্য, অর্থের উৎস এবং পুরো ঘটনায় নেহার ভূমিকা কতটা ছিল—সবই প্রশ্নের মুখে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles