বাংলাস্ফিয়ার: লোকসভায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে এবার সরাসরি নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে রাহুলের সঙ্গে জোশীর তীব্র বাকবিনিময় হয়। সেই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁর উচিত বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রহ্লাদ জোশীর উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সংকটের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরেও সরকারের মনোভাবের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, শুধু মন্ত্রী বদল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, সরকার এখনও বিরোধীদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি।

রাহুলের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রহ্লাদ জোশী বলেন, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সরকার ইতিমধ্যেই পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নতুন আইনও আনা হয়েছে। তাই একই অভিযোগ বারবার তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।

এই ঘটনার পর বিজেপির একাধিক নেতা রাহুল গান্ধীর আচরণের সমালোচনা করেন। দলের মুখপাত্রদের বক্তব্য, একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে রাহুল কথা বলেছেন, তা সংসদীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। তাঁদের কথায়, “রাহুল গান্ধীর আগে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে শেখা উচিত।”

বিজেপির আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে কংগ্রেস রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও বিরোধীরা আন্দোলনের ইস্যুকে জীবিত রাখতে চাইছে এবং সেই কারণেই নতুন শিক্ষামন্ত্রীকেও আক্রমণের লক্ষ্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বিরোধী দলের দায়িত্ব। তাদের বক্তব্য, শিক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদের ভিতরে-বাইরে প্রশ্ন তোলা অব্যাহত থাকবে। শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন করে সরকার দায় এড়াতে পারে না।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ জোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রথম কয়েক দিনের কার্যকলাপ এবং সরকারের অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে। লোকসভায় শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন আইন এবং ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই সংসদ চত্বরে রাহুল-জোশীর এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও এই ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন এবং কেন্দ্রের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই কংগ্রেস সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের আচরণকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে তুলে ধরে রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।