হাইলাইটস
- সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত মেডিক্যাল রিপোর্ট চাইল দিল্লি হাই কোর্ট।
- রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন বিবেচনা করবে আদালত।
- সাফদরজং হাসপাতাল ও দিল্লি পুলিশকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।
- ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
- কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুকের চিকিৎসা চলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
অনশনরত সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে সাফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থার সমস্ত মেডিক্যাল নথি ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করার পরই তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
প্রায় তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশনে থাকা ওয়াংচুককে সম্প্রতি দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে সাফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আবেদনে বলা হয়, ওয়াংচুক নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তিনি যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান, সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার শুনানিতে বিচারপতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, রোগীর সমস্ত মেডিক্যাল রেকর্ড, পরীক্ষার ফল, চিকিৎসকদের মতামত এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ আদালতে জমা দিতে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং রোগীর স্বার্থ—দুই দিকই বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারকে যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। রোগীর নিজের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারও রয়েছে বলে তাঁরা যুক্তি দেন।
অন্যদিকে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জানান, আদালতের আগের নির্দেশ অনুসারেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাফদরজং হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখছেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা করা হচ্ছে না বলেও আদালতকে জানানো হয়।
সরকারি হাসপাতালের তরফে বলা হয়েছে, ওয়াংচুকের রক্তের বিভিন্ন সূচক, শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে। যদিও চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই মামলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দিল্লিতে চলা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনও। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। ওয়াংচুকের অনশন সেই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক দিনে আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, বহু আন্দোলনকারীকে আটক এবং পরে সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
ওয়াংচুকের স্ত্রী আদালতে দাবি করেন, তাঁর স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি চান, এমন একটি হাসপাতালে ওয়াংচুককে নিয়ে যাওয়া হোক যেখানে পরিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে পারবে এবং রোগীর ইচ্ছাকেও সম্মান জানানো হবে।
আদালত অবশ্য এই পর্যায়ে কোনও তড়িঘড়ি নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। বিচারপতি জানান, চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমান বা আবেগের ভিত্তিতে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতামত এবং মেডিক্যাল রিপোর্টই হবে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
এখন সাফদরজং হাসপাতালের জমা দেওয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্ট ঠিক করবে, সোনম ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন রয়েছে কি না। সেই সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে তাঁর পরিবার, আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেরও।