হাইলাইটস:
- এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) -এর ফ্রিজ করা তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালানোর অন্তর্বর্তী অনুমতি দিতে অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার অনুমতি চেয়েছিল।
- আদালত জানিয়েছে, ইডির বক্তব্য না শুনে এই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
- মামলার পরবর্তী শুনানিতে ইডিকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বাংলাস্ফিয়ার: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) -এর ফ্রিজ করা তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালানোর জন্য অন্তর্বর্তী অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে আবেদন করা হয়েছিল, তাতে স্বস্তি পেল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। মঙ্গলবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য না শুনে এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে না।
এই নির্দেশের ফলে আপাতত তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। আদালত ইডিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা আকারে তাদের অবস্থান জানাতে বলেছে। সেই জবাব পাওয়ার পরই মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মমতা শিবিরের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে সাংগঠনিক কাজ, কর্মসূচি পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, দপ্তরের দৈনন্দিন খরচ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতে এই অ্যাকাউন্টগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টগুলি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় দলের সাংগঠনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ইডির তরফে তদন্ত চলছে এবং অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আদালতের তড়িঘড়ি কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া উচিত নয় বলে সংস্থার অবস্থান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এদিন আদালত ইডির বিস্তারিত বক্তব্য শোনেনি।
বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, বিষয়টি তদন্তের সঙ্গে জড়িত এবং একতরফাভাবে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রথমে তদন্তকারী সংস্থার জবাব জানা প্রয়োজন। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করে মমতা শিবির আদালতের দ্বারস্থ হয়। দলের দাবি, আইনসম্মতভাবে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলি অকারণে ফ্রিজ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবারের নির্দেশে আদালত কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্তভাবে সমর্থন করেনি। বরং ইডির জবাবের অপেক্ষায় থেকে মামলার শুনানি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির তিনটি ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত ইডির বক্তব্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং আবেদনকারীদের যুক্তি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।