হাইলাইটস
- কলকাতা হাই কোর্ট ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বাড়াল।
- নির্বাচনী প্রচারে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।
- চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হল না আদালত।
- বিচারপতি জানান, কলকাতায় চিকিৎসা সম্ভব হলে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
- এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের মতামত নেওয়ার পরামর্শ আদালতের।
বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতা হাই কোর্ট সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ধরনের স্বস্তি দিলেও বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর বিষয়ে স্পষ্ট অনীহা প্রকাশ করেছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্বাচনী প্রচারের সময় করা একটি বক্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও রকম কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তী নির্দেশ আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখে।
মামলাটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই বক্তব্যে ভোটার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর ইঙ্গিত ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এর আগে আদালত তদন্ত চলাকালীন অভিষেককে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল। সোমবার সেই সুরক্ষার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।
শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান, আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়েছেন। তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেছেন এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং তা সম্পূর্ণ করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
এরপর আদালত জানায়, তদন্ত নির্ধারিত নিয়মে চলবে এবং সেই তদন্ত শেষ করার দায়িত্ব রাজ্যের। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও জোরালো বা দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ফলে রাজনৈতিকভাবে এটি অভিষেকের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন নিয়ে আদালতের অবস্থান ছিল অনেক বেশি কঠোর। অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর মক্কেলের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন বিচারাধীন রয়েছে এবং সেটির দ্রুত শুনানির প্রয়োজন।
কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন জরুরি ভিত্তিতে শুনতে অস্বীকার করেন। তিনি মৌখিকভাবে প্রশ্ন তোলেন, কলকাতার কোনও বিশেষায়িত হাসপাতালে এই চিকিৎসা সম্ভব নয় কেন? আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি শহরের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্ভব হয়, তাহলে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণ নেই।
বিচারপতি আরও বলেন, প্রথমে রাজ্য পরিচালিত এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের মতামত নেওয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে জানাবেন, সংশ্লিষ্ট সমস্যার চিকিৎসা কলকাতাতেই করা সম্ভব কি না। যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান যে এই চিকিৎসা রাজ্যে সম্ভব নয়, তবেই বিদেশে যাওয়ার আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হবে না। চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা এবং বিশেষজ্ঞের মতামতই হবে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।
রাজনৈতিক মহলেও এই নির্দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তদন্ত চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি সুরক্ষা বজায় রাখলেন, অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসার আবেদন নিয়ে আদালত যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা ভবিষ্যতের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর থাকবে দুই বিষয়ে—একদিকে তদন্ত কত দ্রুত শেষ হয় এবং অন্যদিকে এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আদালত বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সংক্রান্ত আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয়। ৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে এই দুই বিষয়ই সামনে আসতে পারে।