হাইলাইটস:

  • ২৮ জুন থেকে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ।
  • সরকারি চিকিৎসকদের প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে, প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।
  • দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান, তাকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
  • ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কেন্দ্রের।

বাংলাস্ফিয়ার: অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ জুন থেকে অনশন চালিয়ে যাওয়া ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অবিলম্বে চিকিৎসা হস্তক্ষেপ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনও নাগরিকের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে কোনওরকম গাফিলতি চলবে না।

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণ করবেন। চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে যদি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা অবিলম্বে নেওয়া হবে। এই আশ্বাস নথিভুক্ত করেই হাইকোর্ট মামলার নিষ্পত্তি করে।

ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। তাঁর আন্দোলনের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার দায় সরকারের এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

অনশনের উনিশতম দিনে পৌঁছে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দাবি, তিনি ইতিমধ্যে ৯ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন। যদিও তিনি এখনও মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন, দীর্ঘ অনশন অব্যাহত থাকলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতায় গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এক আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে আদালতের কাছে আবেদন জানান, ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক। আদালত সেই আবেদন বিবেচনা করেই সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় এবং শেষ পর্যন্ত দৈনিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়।

রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। সেই জীবন রক্ষায় সরকারের সবরকম চেষ্টা করা উচিত।” তবে আদালত একই সঙ্গে জানিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনও হস্তক্ষেপ চিকিৎসকদের পেশাদার মতামতের ভিত্তিতেই হতে হবে।

ওয়াংচুকের সমর্থকেরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও সরকারের তরফে দাবিগুলি নিয়ে কোনও অর্থবহ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের দাবিগুলি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়।

এদিকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে তাঁর উত্থাপিত বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, অতীতে বড় সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের উদ্যোগ দেখা গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

আদালতের নির্দেশের ফলে এখন থেকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর সরকারি নজরদারি বাধ্যতামূলক হল। তবে তাঁর অনশন অব্যাহত থাকবে কি না, নাকি সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আপাতত দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের আওতায় এল।