হাইলাইটস:
- সময় রায়না-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানা।
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শো-তে আমন্ত্রণ জানাতে আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি।
- প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “Samay Raina has taken the court for a ride.”
- স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (SMA) নিয়ে কৌতুক ও সংবেদনহীন মন্তব্যের অভিযোগ।
- কিউর এসএমএ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি।
বাংলাস্ফিয়ার: স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও ইউটিউবার সময় রায়নার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত সময় রায়না-সহ মোট পাঁচ জনের উপর ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছে। অভিযোগ, আদালতের আগের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “সময় রায়না আদালতকে কার্যত বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন।”
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতের নজরে আনা হয় যে, আগের নির্দেশে সময় রায়নাকে তাঁর অনুষ্ঠানগুলিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতে বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সংবেদনশীলতা তৈরি করা এবং যাঁদের নিয়ে কৌতুক করা হয়েছে, তাঁদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি।
এই তথ্য সামনে আসতেই আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতের নির্দেশকে অবহেলা করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি কেবল নির্দেশ অমান্য নয়, বিচারব্যবস্থার প্রতিও অসম্মানজনক মনোভাবের পরিচয়।
মামলাটি দায়ের করেছিল কিউর এসএমএ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন। তাদের অভিযোগ, সময় রায়না তাঁর অনুষ্ঠানে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (SMA)-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, এই বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকেও উপহাস করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি একটি জটিল ও বিরল জিনগত রোগ। আক্রান্তদের চিকিৎসার খরচ অত্যন্ত বেশি। এই বাস্তবতাকে হাস্যরসের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু অসংবেদনশীলই নয়, আক্রান্ত পরিবারগুলির মানসিক যন্ত্রণাকেও বাড়িয়ে দেয় বলে আবেদনকারীদের দাবি।
এই মামলায় এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব স্বীকার করেছিল। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাহীন নয়। বিশেষ করে সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক অংশকে অপমান বা বিদ্রূপ করার অধিকার সংবিধান কাউকে দেয় না।
সেই কারণেই আদালত সময় রায়নাদের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার অন্যতম ছিল, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো। আদালতের মতে, এতে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য এড়ানো সম্ভব হবে।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় এ দিন বেঞ্চ কঠোর অবস্থান নেয়। সময় রায়না-সহ পাঁচ জনের প্রত্যেককে ৩ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিচারব্যবস্থার নির্দেশকে অবজ্ঞা করা হলে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের বক্তব্য ও কৌতুককে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোথায় শিল্পের স্বাধীনতা শেষ হয় এবং কোথা থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা শুরু হয়— সেই প্রশ্নও বারবার সামনে এসেছে। এই মামলার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট আবারও সেই ভারসাম্যের দিকেই গুরুত্ব দিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা কৌতুকের স্বাধীনতা থাকলেও, তা যেন কোনওভাবেই প্রতিবন্ধী, অসুস্থ বা সামাজিকভাবে দুর্বল মানুষের মর্যাদাকে আঘাত না করে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তাও এই মামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল।