Home খবর বাবার সঙ্গে মিল, ভাইয়ের সঙ্গে নয় হ্যারির

বাবার সঙ্গে মিল, ভাইয়ের সঙ্গে নয় হ্যারির

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 4 minutes read
A+A-
Reset

চার্লসের সঙ্গে বরফ গলছে, কিন্তু উইলিয়াম-হ্যারির দূরত্ব এখনও অটুট

হাইলাইটস

  • ব্রিটেন সফরে একই দেশে থেকেও দেখা হল না প্রিন্স হ্যারি ও প্রিন্স উইলিয়ামের।
  • বহু বছর পর রাজা চার্লস, রানি ক্যামিলা, হ্যারি, মেগান ও তাঁদের সন্তানদের পারিবারিক পুনর্মিলন।
  • ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই দুই ভাইয়ের সম্পর্কে গভীর ফাটল।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-ছেলের সম্পর্কের উন্নতি হলেও ভাইদের পুনর্মিলন এখনও দূরের স্বপ্ন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারে সম্পর্কের সমীকরণে যেন দুই বিপরীত ছবি। একদিকে বহু বছর পর রাজা তৃতীয় চার্লস ও ছেলে প্রিন্স হ্যারির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ব্রিটেনে থেকেও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম-এর সঙ্গে একবারও দেখা করলেন না হ্যারি। ফলে দুই ভাইয়ের সম্পর্কের বরফ এখনও যে গলেনি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

গত সপ্তাহে ইনভিক্টাস গেমস ২০২৭-এর প্রস্তুতি উপলক্ষে ব্রিটেন সফরে ছিলেন হ্যারি। আহত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। বার্মিংহামে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পিকলবল ও হুইলচেয়ার রাগবিতেও সময় কাটাতে দেখা যায় তাঁকে।

অন্যদিকে, একই দিনে উইন্ডসরে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক রয়্যাল চ্যারিটি পোলো কাপ। সেখানে মাঠে ছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম, আর গ্যালারিতে তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অব ওয়েলস। অর্থাৎ, একই দেশে থাকা সত্ত্বেও দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনও সাক্ষাৎ বা যৌথ উপস্থিতি হয়নি।

তবে সফরের শেষদিকে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। বহু বছর পর হ্যারি, মেগান মার্কল, আর্চি ও লিলিবেট দেখা করেন রাজা চার্লসরানি ক্যামিলার সঙ্গে। হাইগ্রোভ হাউসে অনুষ্ঠিত সেই পারিবারিক মিলনমেলায় রাজা তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটান। রাজপরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় বাবা-ছেলের সম্পর্ক এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার পথে।

২০২৪ সালে রাজা চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। গত বছর তাঁদের ব্যক্তিগত বৈঠকও সেই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিল। এবারের পারিবারিক সাক্ষাৎ সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু সেই আশার আলো এখনও পৌঁছায়নি উইলিয়াম ও হ্যারির সম্পর্কে।

একসময় দুই ভাই ছিলেন একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তাঁদের অভিন্ন শোক গোটা বিশ্বের সামনে এসেছিল। কিন্তু ২০২০ সালে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

পরবর্তীতে ওপরা উইনফ্রের সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি এবং হ্যারির আত্মজীবনী Spare সেই দূরত্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। বইটিতে হ্যারি অভিযোগ করেন, এক তর্কের সময় উইলিয়াম তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। যদিও কেনসিংটন প্রাসাদ এই অভিযোগ নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।

রাজপরিবার বিশ্লেষকদের মতে, হ্যারি ও উইলিয়ামের মতাদর্শগত পার্থক্যও এই দূরত্ব বাড়িয়েছে। হ্যারি যেখানে প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, সেখানে উইলিয়াম বরাবরই রাজপরিবারের পুরনো নীতি—‘Never complain, never explain’—মেনেই চলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজা চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা। তবে দুই ভাইয়ের মধ্যে যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এখনও অটুট। ভবিষ্যতে সেই সম্পর্ক জোড়া লাগবে কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত ব্রিটিশ রাজপরিবারে পুনর্মিলনের ছবির আড়ালেও সবচেয়ে বড় বাস্তবতা রয়ে গেছে উইলিয়াম ও হ্যারির নীরব দূরত্ব।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles