হাইলাইটস:
- ২০১৮ সালের নববর্ষের রাতে দিল্লির ফার্মহাউসে উৎসবের গুলিতে এক মহিলার মৃত্যু।
- বিহারের বিজেপি বিধায়ক রাজু কুমার সিংহকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিল দিল্লির আদালত।
- বিচারকের কড়া মন্তব্য, ‘আইনের শাসনে সিংঘম বা পুষ্পার প্রয়োজন নেই’।
- অস্ত্রের দাপট ও বেপরোয়া গুলিচালনার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা আদালতের।
দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের ফতেপুর বেরির একটি ফার্মহাউসে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নববর্ষ উদ্যাপনের রাতে আনন্দোৎসবের মাঝেই ছোড়া গুলিতে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় বিহারের বিজেপি বিধায়ক রাজু কুমার সিংহকে চার বছরের কারাদণ্ড দিল দিল্লির একটি আদালত। শনিবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে এই সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে বাড়তে থাকা ‘বন্দুক সংস্কৃতি’ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রায়ে বিচারক বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রে ‘সিংঘম’ বা ‘পুষ্পা’র মতো চরিত্রের কোনও প্রয়োজন নেই। জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের এই দুই চরিত্রকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আইনরক্ষক এবং অন্যজন আইনভঙ্গকারী হলেও উভয়ের মধ্যেই শক্তি ও সহিংসতার প্রকাশ্য প্রদর্শনের প্রবণতা রয়েছে। বিচারকের মতে, রাজু কুমার সিংহের প্রকাশ্যে গুলিচালনার ঘটনা সেই মানসিকতাকেই উৎসাহিত করে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে দিল্লির ফতেপুর বেরিতে রাজু সিংহের ফার্মহাউসে নববর্ষ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠানে তিনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে আকাশের দিকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালান। সেই গুলির একটি উপস্থিত এক মহিলার গায়ে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তের পর পুলিশ রাজু সিংহের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানো এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে। বিচার চলাকালীন সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। শনিবার সাজা ঘোষণা করে আদালত জানায়, জনসমক্ষে বা উৎসবের নামে বেপরোয়া গুলিচালনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি।
বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না। অস্ত্রের দাপট দেখিয়ে সমাজে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, উৎসব বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ‘সেলিব্রেটরি ফায়ারিং’-এর নামে প্রাণহানির ঘটনা দেশে নতুন নয়। আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে এমন প্রবণতা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও আইন সমানভাবে প্রযোজ্য—এই বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরল আদালতের এই রায়।