Home খবর হাইকোর্টের নির্দেশ: ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিতে হবে অভিষেককে

হাইকোর্টের নির্দেশ: ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিতে হবে অভিষেককে

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
10 views 2 minutes read
A+A-
Reset
হাইলাইটস:
  • হুমকিমূলক ভাষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • বিচারপতি জানান, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ প্রয়োজন বলে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য।
  • নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে অভিষেককে।
  • আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে সহযোগিতা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
  • মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চালানোর নির্দেশও বহাল রেখেছে আদালত।

হুমকিমূলক ভাষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার তদন্তের স্বার্থে এই নমুনা সংগ্রহ অপরিহার্য বলে আদালতে দাবি জানিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। সেই আবেদন মঞ্জুর করেই আদালত এই নির্দেশ দেয়।

মামলাটি একটি প্রকাশ্য ভাষণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই বক্তব্যে ভয় দেখানো, উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানায়, সংশ্লিষ্ট বক্তৃতার অডিও রেকর্ডিং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। সেই কারণেই আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়।

শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো আইনসম্মত প্রক্রিয়ার অংশ। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযুক্তের দোষ বা নির্দোষ প্রমাণিত হয় না; বরং তদন্তকে তথ্যভিত্তিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই নির্দিষ্ট দিনে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও জানায়, তদন্তে সহযোগিতা করা আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তদন্তকারী সংস্থা যদি আদালতের অনুমতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার আবেদন করে এবং তার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা উচিত।

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা আদালতে বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, তদন্তের পরিধি, প্রয়োজনীয়তা এবং পদ্ধতি নিয়ে আদালতের সতর্ক থাকা উচিত। তবে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তদন্তের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নমুনা সংগ্রহের পর তা ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। সেখানে বক্তৃতার অডিওর সঙ্গে কণ্ঠস্বরের বৈজ্ঞানিক তুলনা করা হবে। সেই রিপোর্ট মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে সেই প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বিচার হবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায়।

এই নির্দেশের ফলে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কণ্ঠস্বর পরীক্ষার ফল হাতে এলে তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে আদালতও ভবিষ্যতের শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারতে বিভিন্ন ফৌজদারি তদন্তে আদালতের অনুমতিক্রমে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নজির রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে এ ধরনের নমুনা সংগ্রহকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদালত নিশ্চিত করে যে, তদন্তের প্রক্রিয়া আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মধ্যে থেকেই পরিচালিত হবে।

১৫ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের নির্দেশ মেনে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন কি না এবং তার ভিত্তিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল এবং আইনি পর্যবেক্ষকদের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles