হাইলাইটস:

  • সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে উঠল কেপ ভার্দে।
  • অন্য ম্যাচে স্পেনের জয়ে নিশ্চিত হয় কেপ ভার্দের নকআউট পর্বের টিকিট।
  • মাত্র ৫.৩ লক্ষ জনসংখ্যার দেশের বিশ্বকাপ অভিষেকেই নজির।
  • ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলের ভরসা।
  • শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।

বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রূপকথা লিখে চলেছে কেপ ভার্দে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করার পরই অন্য ম্যাচের ফলাফলের অপেক্ষায় ছিল গোটা দল। শেষ বাঁশি বাজার পর ফুটবলাররা প্রধান কোচ বুবিস্তার চারপাশে জড়ো হয়ে একটি মোবাইল ফোনে স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত দেখছিলেন। স্পেনের জয় নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা দল। আলিঙ্গন, পতাকা ওড়ানো, গান আর নাচে উদ্‌যাপিত হয় দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

মাত্র ৫ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে এবার বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলছে। আর অভিষেকেই তারা পৌঁছে গেল শেষ বত্রিশে। এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা—লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নকআউট লড়াই।

এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাঁকে খুব কম মানুষ চিনতেন, এখন তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিজের দ্বীপ সাঁও ভিসেন্তের স্থানীয় লিগেই খেলেছেন। অথচ আজ তাঁর সামনে দাঁড়াবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। ফুটবলের সৌন্দর্য বোধহয় এমন অসম্ভব গল্পেই লুকিয়ে থাকে।

কেপ ভার্দের দলে আরও রয়েছে অনন্য কিছু চরিত্র। রক্ষণভাগের পিকো লোপেসকে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেশাগত পরিচয়ের মাধ্যমে দলে আনা হয়েছিল। অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বয়স ৩৬, তিনি বর্তমানে তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের লিগে খেলেন। অথচ তাঁরাই এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মঞ্চে।

সৌদি আরব ম্যাচে কেপ ভার্দেই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। সৌদিরা বলের দখল পেলেও ভোজিনিয়াকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে মোহাম্মদ কান্নোর হেড সহজেই আটকে দেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। শেষদিকে আবদুল্লাহ আল-হামদানের সুযোগও নষ্ট হয় তাঁর দৃঢ় উপস্থিতির সামনে।

অন্যদিকে কেপ ভার্দে একাধিকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছেছিল। নুনো দা কস্তার নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। মাঝমাঠে কেভিন পিনাও দারুণ ছন্দে ছিলেন এবং দূরপাল্লার শটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত গোল না এলেও তাতে ক্ষতি হয়নি। স্পেনের জয় কেপ ভার্দেকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দেয়। এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে মিয়ামিতে, যেখানে রূপকথার নায়ক কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। আর সবার কৌতূহল—মেসির সামনে ভোজিনিয়ার সেই অদৃশ্য প্রাচীর কতক্ষণ অটুট থাকে।