হাইলাইটস:

  • গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ ও প্রতারণার মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলেন মার্কিন বিচারক।
  • বিচার বিভাগের যুক্তি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য আদালতের।
  • ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ।
  • মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর হতে পারে, তবে আগে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে সরকারকে।

বাংলাস্ফিয়ার: ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক। বিচার বিভাগের আবেদন সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুর করতে রাজি হননি তিনি।

শুক্রবার দেওয়া এক নির্দেশে মার্কিন জেলা বিচারক নিকোলাস জি. গারাউফিস বলেন, মামলা প্রত্যাহারের পক্ষে সরকার পর্যাপ্ত যুক্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি।

যদিও আইন অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সরকারের আবেদন নাকচ করার সুযোগ বিচারকের খুবই সীমিত, তবু তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কেন এই মামলা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বা জনস্বার্থে নয় বলে সরকার মনে করছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশকে বিচার বিভাগের জন্য আরও একটি ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও আলোচিত কয়েকটি মামলায় সরকার হঠাৎ অবস্থান বদল করায় আদালত প্রশ্ন তুলেছিল।

গত বছর নিউইয়র্কের প্রাক্তন মেয়র এরিক অ্যাডামসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল বিচার বিভাগ। তখনও আদালত সরাসরি আবেদন মঞ্জুর না করে একজন স্বাধীন আইনজীবী নিয়োগ করে তাঁর মতামত নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত দেয়।

জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। অভিযোগ ছিল, আদানি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষকর্তা ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি পেতে সরকারি কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রকাশ্যে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।

গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতের কাছে এই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়।

শুক্রবার বিচারকের নির্দেশ নিয়ে বিচার বিভাগের মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করেননি। আদানির আইনজীবীরাও মন্তব্য করতে অস্বীকার করে আদালতে জমা দেওয়া একটি চিঠির উল্লেখ করেন।

সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ আইনি ও বাস্তব তথ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা, লিখিত নথি, বিভিন্ন প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের সময় আদানি এবং তাঁর সংস্থা অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। বিদেশি নাগরিক হওয়ায় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা না হওয়ায় আদানি কখনও আদালতে হাজির হননি বা অভিযোগের জবাবও দেননি।

তবে এই মামলা গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বন্দর, কয়লাখনি, বিমানবন্দর-সহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবসা থাকা আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বলে অনুমান করা হয়।

ভারতের কট্টরপন্থী মহলের একাংশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই মামলার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী এখনও প্রকাশ্যে তেমন কোনও মন্তব্য করেননি।