মেসির হ্যাট্রিকে আলজেরিয়াকে আজ আর্জেন্টিনা প্রায় একপ্রকার উড়িয়েই দিয়েছে বলা চলে।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্বছন্দে মেসি।গোটা বিশ্ব যখন এই জয় নিয়ে উল্লসিত, ঠিক তখনই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে মেসির টিমের তরফ থকে পাঠানো হল এক চাঞ্চল্যকর ই-মেল।
কলকাতায় লিয়োনেল মেসির ‘জি.ও.এ.টি’ (GOAT) ইন্ডিয়া ট্যুরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এবার যুক্ত হলো এক নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মাত্রা। গত ডিসেম্বরের সেই অপ্রীতিকর ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, সরাসরি আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ব্যক্তিগত টিম প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যোগাযোগ করল। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে পাঠানো একটি চাঞ্চল্যকর ই-মেলে মেসির টিম সেইদিনের চরম অব্যবস্থার জন্য তৎকালীন রাজ্য ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
মেসির সফরসঙ্গী এবং তাঁর ম্যানেজমেন্ট টিমের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো এই ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসি পা রাখার পর থেকেই পরিস্থিতি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ব্যক্তি তথা তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার পরই তাঁর অনুগামী ও অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ নিয়ম ভেঙে বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে আক্ষরিক অর্থেই ছেঁকে ধরেন। ভিড়ের প্রবল চাপে এবং চরম হুড়োহুড়ির জেরে স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারি থেকে মেসি, লুইস সুয়ারেজ কিংবা রদ্রিগো ডি’পলদের এক ঝলক দেখার সুযোগটুকুও হারিয়ে ফেলেন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। শুধু তাই নয়, ভিড়ের মধ্যে মেসিকে অত্যন্ত অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করা এবং তাঁর গায়ে সেঁটে থাকার মতো গুরুতর সুরক্ষাজনিত গাফিলতির অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই ই-মেলে।
আইনি জলঘোলা ও পুলিশের নোটিস
এই নজিরবিহীন অপেশাদারিত্ব এবং বিশৃঙ্খলার জল ইতিমধ্যেই আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইভেন্ট অর্গানাইজার শতদ্রু দত্তের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। তারও আগে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিধাননগর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মোট ১০টি জামিন অযোগ্য ও গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিধাননগর গোয়েন্দা পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পর পর তিনটি আইনি নোটিস পাঠিয়েছে।
আইনি রক্ষাকবচ পেলেও স্বস্তিতে নেই প্রাক্তন মন্ত্রী। কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করলেও, আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাঁকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে স্বয়ং মেসির টিমের পাঠানো অফিশিয়াল ই-মেলটি তদন্তকারীদের হাতে আসার পর, প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
উপসংহার
উল্লেখ্য, ফুটবল ঈশ্বরের দ্বিতীয়বার কলকাতা আগমন ঘিরে গোটা বিশ্বজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, যুবভারতীর রাতের এই চরম অব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক স্তরের তারকাদের সুরক্ষাহীনতার ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের দরবারে কলকাতার ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। এবার স্বয়ং মেসি শিবিরের সরাসরি অভিযোগে এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে এবং ‘নিঃসঙ্গ সম্রাট’ অরূপ বিশ্বাসের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় সেটাই এখন দেখার।