বিজ্ঞান-রহস্য

নরম এক্স-রে, তীব্র অতিবেগুনি: মহাকাশে ৮৪টি নতুন রহস্য

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নাসার চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দির ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশপাশের ছয়টি ছায়াপথে ৮৪টি অদ্ভুত উৎস শনাক্ত করেছেন।
  • তারা অত্যন্ত কম শক্তির এক্স-রে ছড়ায়, অথচ অতিবেগুনি বিকিরণ তীব্র।
  • পরিচিত শ্রেণির সঙ্গে পুরোপুরি না মেলায় গবেষকেরা এদের ‘হাইপারসফট এক্স-রে সোর্স’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে প্রস্তাব করেছেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নাসার চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দির ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশপাশের ছয়টি ছায়াপথে ৮৪টি অদ্ভুত উৎস শনাক্ত করেছেন। তারা অত্যন্ত কম শক্তির এক্স-রে ছড়ায়, অথচ অতিবেগুনি বিকিরণ তীব্র। পরিচিত শ্রেণির সঙ্গে পুরোপুরি না মেলায় গবেষকেরা এদের ‘হাইপারসফট এক্স-রে সোর্স’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে প্রস্তাব করেছেন।

গবেষণাটি ৯ সেপ্টেম্বর নেচার অ্যাস্ট্রোনমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পর্যবেক্ষিত ছায়াপথের মধ্যে অ্যান্ড্রোমিডা এবং পিনহুইল গ্যালাক্সিও রয়েছে। চন্দ্রের বহু বছরের সংগৃহীত তথ্য এবং অতিবেগুনি পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে উৎসগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল, এগুলি যুগ্ম নক্ষত্রব্যবস্থা। একটি শ্বেত বামন, নিউট্রন তারা বা কৃষ্ণগহ্বর তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে পদার্থ টেনে নিচ্ছে। সেই পদার্থ পতনের আগে উত্তপ্ত হয়ে বিকিরণ তৈরি করে। কিন্তু পরিচিত এক্স-রে যুগলের তুলনায় এদের উচ্চশক্তির এক্স-রে কম এবং অতিবেগুনি আলো অনেক বেশি।

এর একটি কারণ হতে পারে, কেন্দ্রের চারপাশে ঘন পদার্থ উচ্চশক্তির বিকিরণ শোষণ করে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির আলো হিসেবে বাইরে ছাড়ছে। আবার একাধিক ধরনের মহাজাগতিক ব্যবস্থা একই পর্যবেক্ষণ-শ্রেণিতে জমা হয়ে থাকতে পারে। তাই ৮৪টি উৎসের প্রত্যেকটির ভিতরে একই বস্তু রয়েছে—এমন দাবি গবেষকেরা করছেন না।

এই উৎসগুলি দুটি বড় প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রথমত, ছায়াপথের আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসকে আয়নিত রাখতে প্রয়োজনীয় অতিবেগুনি শক্তির একটি অংশ কোথা থেকে আসে। দ্বিতীয়ত, শ্বেত বামনের বিস্ফোরণে সৃষ্টি টাইপ-আইএ অতিনবতারা কীভাবে শুরু হয়। এই অতিনবতারাগুলি মহাজাগতিক দূরত্ব মাপতে ব্যবহৃত হয় এবং প্রসারমান মহাবিশ্ব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের নিজস্ব ছায়াপথে একই বস্তু খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। নক্ষত্রমধ্যবর্তী গ্যাস ও ধুলো অতিবেগুনি আলো শোষণ করে; ফলে দূরের উৎস আড়ালে পড়ে যায়। আশপাশের অন্য ছায়াপথকে বাইরে থেকে দেখলে তুলনামূলক সম্পূর্ণ নমুনা পাওয়া যায়।

‘নতুন শ্রেণি’ কথাটি শুনলে নতুন কোনও বস্তু আবিষ্কারের ধারণা হয়। বাস্তবে বিজ্ঞানীরা প্রথমে এক ধরনের পর্যবেক্ষণগত আচরণ আলাদা করেছেন; তার ভিতরের যন্ত্র এখনও অনিশ্চিত। এই পার্থক্যটি সংবাদে রাখা জরুরি।

আবিষ্কারের গুরুত্বও সেই অনিশ্চয়তায়। পরিচিত মডেলে সব পর্যবেক্ষণ না মেলাই নতুন গবেষণার দরজা খোলে। ৮৪টি উৎস এখন উত্তর নয়, ৮৪টি সুসংগঠিত প্রশ্ন—এবং বিজ্ঞানে ভাল প্রশ্নের অভাব প্রায়ই উত্তরের অভাবের চেয়েও বড় সমস্যা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles