দশ হাজার ফুট নিচে সুতোর মতো বাহু: ক্যামেরায় বিরল বিগফিন স্কুইড

যা জানা জরুরি
- ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের সমুদ্রতলে একটি বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি পরীক্ষা করছিল মন্টেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবযান ‘ডক রিকেটস’।
- প্রায় ১০,৭৫১ ফুট গভীরে ক্যামেরার সামনে ভেসে এল এমন একটি স্কুইড, যার পাখনাগুলি বড় এবং বাহুগুলি শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক দীর্ঘ।
- সেটি ছিল বিগফিন স্কুইড বা ম্যাগনাপিন্না গণের সদস্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের সমুদ্রতলে একটি বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরি পরীক্ষা করছিল মন্টেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবযান ‘ডক রিকেটস’। প্রায় ১০,৭৫১ ফুট গভীরে ক্যামেরার সামনে ভেসে এল এমন একটি স্কুইড, যার পাখনাগুলি বড় এবং বাহুগুলি শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক দীর্ঘ। সেটি ছিল বিগফিন স্কুইড বা ম্যাগনাপিন্না গণের সদস্য।
পর্যবেক্ষণটি হয়েছিল দশ দিনের সমুদ্র-অভিযানের সময়; সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রথম খবর প্রকাশিত হয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর নতুন প্রতিবেদন আসে। গবেষকদের হিসাবে প্রাণীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.১ ফুট। তার বড় অংশই সরু বাহু ও শুঁড়।
বিগফিন স্কুইড পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভভাবে দেখা গভীরসমুদ্রের প্রাণীদের একটি। মৃত নমুনা ও অল্প কয়েকটি ভিডিও থেকে বিজ্ঞানীরা গণটি সম্পর্কে জানেন। জীবিত প্রাণীকে তার স্বাভাবিক পরিবেশে এত পরিষ্কারভাবে দেখা বিরল। ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এটিই প্রথম নিশ্চিত জীবিত পর্যবেক্ষণ বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।
প্রাণীটির দশটি অঙ্গ শরীর থেকে প্রথমে নিচের দিকে নেমে পরে প্রায় সমকোণে বাঁক নেয়। এই ভঙ্গির কারণে তাকে গভীর সমুদ্রের জলে ঝুলন্ত সুতোর পুতুলের মতো দেখায়। অঙ্গগুলি ঠিক কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তলদেশের কাছে ভেসে থাকা ক্ষুদ্র জীব ধরতে সেগুলি কাজে লাগতে পারে।
সমুদ্রের ওই গভীরতায় সূর্যের আলো পৌঁছয় না। চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় কয়েকশো গুণ বেশি, তাপমাত্রা কম এবং খাদ্য অনিশ্চিত। সেখানে বসবাসকারী প্রাণীদের ধরন বোঝার জন্য দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবযান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জাল ফেললে নরমদেহী প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ক্যামেরা তাকে না ছুঁয়েই আচরণ নথিবদ্ধ করতে পারে।
একটি ভিডিও থেকে প্রজাতির জনসংখ্যা, বিস্তার বা সংরক্ষণ-অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। এই পর্যবেক্ষণ কেবল জানায়, ওই সময়ে ওই স্থানে একটি প্রাণী ছিল। তবে গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের মানচিত্র তৈরিতে এমন প্রতিটি নথি মূল্যবান।
মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠের বড় অংশের ছবি তুলেছে, অথচ নিজের গ্রহের গভীর সমুদ্রের বহু প্রাণীকে কয়েকবারের বেশি দেখেনি। বিগফিন স্কুইড সেই অজানার এক চমৎকার প্রতিনিধি। তার চেহারাকে ‘ভিনগ্রহী’ বলা সহজ; বাস্তবে সে পৃথিবীরই বাসিন্দা, আমরাই তার ঠিকানায় খুব কম পৌঁছেছি।
গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন ও অন্য শিল্পকর্মের পরিকল্পনার সময় এই অজ্ঞতা মনে রাখা দরকার। যে বাস্তুতন্ত্রের অধিবাসীদের তালিকাই সম্পূর্ণ নয়, সেখানে ক্ষতির হিসাবও সহজে পূর্ণ হতে পারে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



