দেশ

মহন্তের জায়গায় মুসলিম নেতা: উত্তরাখণ্ডে সপার রদবদলে নজর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ভোটেও

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আর পাঁচ মাসও বাকি নেই।
  • এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী উত্তরাখণ্ডে দলের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে মুসলিম নেতা আব্দুল মতিন সিদ্দিকিকে নিয়োগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
  • তাঁর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন মহন্ত শুভম গিরি, যাঁকে আট মাসেরও কিছু বেশি আগে দলের কার্যকরী রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আর পাঁচ মাসও বাকি নেই। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী উত্তরাখণ্ডে দলের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে মুসলিম নেতা আব্দুল মতিন সিদ্দিকিকে নিয়োগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন মহন্ত শুভম গিরি, যাঁকে আট মাসেরও কিছু বেশি আগে দলের কার্যকরী রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল।

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা।

নৈনিতাল জেলার বাসিন্দা, ৬৬ বছর বয়সি সিদ্দিকি এর আগে উত্তরাখণ্ড সমাজবাদী পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-সহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। ২০০৭ ও ২০১২ সালে দলের টিকিটে হলদোয়ানি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন তিনি। তবে দু’বারই পরাজিত হন।

এই প্রথম উত্তরাখণ্ডে কোনও মুসলিম নেতাকে রাজ্য সভাপতি করল সমাজবাদী পার্টি।

দলীয় সূত্রের বক্তব্য, উত্তরাখণ্ডে সপার নতুন রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের পাশাপাশি সিদ্দিকিকে প্রায় ২০টি বিধানসভা আসনে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। হরিদ্বার, উধম সিং নগর, দেহরাদূন ও নৈনিতাল জেলার এই আসনগুলিতে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মুসলিম ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতীতের একাধিক নির্বাচনে এই কেন্দ্রগুলির মুসলিম ভোটাররা মূলত কংগ্রেস ও বহুজন সমাজ পার্টিকে সমর্থন করেছেন।

সপার মুখপাত্র এবং উত্তরাখণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “উত্তরাখণ্ডের সমতল অঞ্চলের এই জেলাগুলিতে ভোটারদের একটি বড় অংশ মুসলিম। সে কারণেই তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তিনি সীমান্তবর্তী পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিমপ্রধান জেলাগুলিতেও কাজ করবেন।”

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৪ বছর বয়সি শুভম গিরিকে উত্তরাখণ্ডে দলের কার্যকরী রাজ্য সভাপতি করেছিল সপা। সেই সময় উত্তরাখণ্ডের জ্যোতির্মঠের ‘শঙ্করাচার্য’ স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর প্রতি উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের কথিত জুলুমকে কেন্দ্র করে প্রয়াগরাজের মাঘমেলা রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। শাসক বিজেপির সঙ্গে বিরোধী সপা ও কংগ্রেসের চাপানউতোর চলছিল।

স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের অভিযোগ ছিল, ১৮ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যার দিন ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্যস্নান করতে তাঁকে বাধা দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এর প্রতিবাদে তিনি অবস্থানে বসেন। প্রয়াগরাজ প্রশাসন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে। অখিলেশ এবং কংগ্রেস ওই ধর্মগুরুকে সমর্থন জানিয়ে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে ‘সনাতন ধর্মের অবমাননা’র অভিযোগ তোলে।

তখন গিরির নিয়োগ প্রসঙ্গে সপা শিবির জানিয়েছিল, “দল সব মহন্ত, ধর্মগুরু ও সাধুসন্তকে সম্মান করে” বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সপার বিরুদ্ধে বিজেপির ‘মুসলিম তোষণ’-এর অভিযোগের মোকাবিলা করার চেষ্টাও দেখা হয়েছিল এই নিয়োগের মধ্যে।

রাজেন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডে দলের প্রধান হিসেবে গিরির কাজ “সন্তোষজনক ছিল না”। তবে তাঁকে এখন রাজ্য সংগঠনের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা করা হয়েছে।

গিরি বলেন, রাজ্যে সপাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। তাঁর কথায়, “কিন্তু দলের কয়েকজন আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন। তা ছাড়া আমি হরিদ্বার জেলার পিরান কালিয়ার আসন থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই দলীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ করেছিলাম, আমাকে কার্যকরী রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক, যাতে নিজের কেন্দ্রে মন দিতে পারি।”

মহন্ত গিরি গেরুয়া পোশাক পরেন এবং হরিদ্বারের একটি আশ্রমে থাকেন। বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত তিনি।

পেশায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকি শীঘ্রই উত্তরাখণ্ডে সপার বর্তমান জেলা কমিটিগুলি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংগঠন গড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে রাজ্যে দলের কোনও কার্যনির্বাহী কমিটি নেই।

সিদ্দিকি  বলেন, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ—দুই রাজ্যেই বিধানসভা নির্বাচন সামনে। তাই উভয় রাজ্যে দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়াতে কাজ করবেন তিনি। উত্তরাখণ্ডে উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে, এমন প্রায় ২০টি আসনে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। ওই আসনগুলিতে দল “পূর্ণ শক্তি” নিয়ে লড়বে বলেও জানান তিনি।

সিদ্দিকির কথায়, “সীমান্তবর্তী পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বরেলি, রামপুর, মোরাদাবাদ, বিজনৌর, সাহারানপুর প্রভৃতি জেলার বেশ কয়েকটি আসনেও কাজ করব। সেখানে প্রচুর মুসলিম ভোটার রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে সপার সরকার গঠন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

সপা এবং কংগ্রেস বর্তমানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক হলেও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এই জেলাগুলিতে মুসলিম ভোটের জন্য তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দল। তবে সপা সূত্রের বক্তব্য, উত্তরাখণ্ডে তাদের মধ্যে এমন কোনও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

উত্তরাখণ্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলিম। রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত সবচেয়ে বেশি হরিদ্বারে—৩৪.২৮ শতাংশ। এর পরে রয়েছে উধম সিং নগর—২২.৫৮ শতাংশ, নৈনিতাল—১২.৬৫ শতাংশ এবং দেহরাদূন—১১.৯১ শতাংশ।

২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৭০টি আসনের মধ্যে ৫৫টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল সপা। কিন্তু একটিতেও জিততে পারেনি। বিজেপি ৪৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় ফেরে। কংগ্রেস পায় ১৯টি আসন। বিএসপি হরিদ্বারের মঙ্গলৌর ও লাকসার—এই দু’টি আসনে জয়ী হয়। তাদের দুই জয়ী প্রার্থীই ছিলেন মুসলিম।

২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে ২৫৫টিতে জিতে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিজেপি। সপা পেয়েছিল ১১১টি আসন। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ৭৪টি আসনের মধ্যে সপা জিতেছিল ২৩টিতে এবং তার তৎকালীন শরিক রাষ্ট্রীয় লোক দল বা আরএলডি পেয়েছিল আটটি। বিজেপি জিতেছিল ৪৩টি আসনে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles