মস্কো-কিয়েভ, দু’দিকেই দিল্লি

যা জানা জরুরি
- ‘শুধু যুদ্ধ থামানোর আহ্বান নয়, সংঘাতের অবসানে ভারত এখন আরও সক্রিয়’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত থামাতে দু’পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে ভারত।
- বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য, এত দিন শুধু যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে সওয়াল করলেও এখন সেই সংঘাতের অবসানে চলা উদ্যোগে ভারত আরও সক্রিয় ভাবে যুক্ত হয়েছে।
- জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, শুরুতে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও কথাবার্তা এখন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গড়িয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘শুধু যুদ্ধ থামানোর আহ্বান নয়, সংঘাতের অবসানে ভারত এখন আরও সক্রিয়’
রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত থামাতে দু’পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য, এত দিন শুধু যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে সওয়াল করলেও এখন সেই সংঘাতের অবসানে চলা উদ্যোগে ভারত আরও সক্রিয় ভাবে যুক্ত হয়েছে।
জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, শুরুতে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও কথাবার্তা এখন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গড়িয়েছে। শস্য ও জ্বালানি রফতানি, পাশাপাশি পরস্পরের উপর হামলা না করার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়েও দু’পক্ষের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ রয়েছে। আপাতত সেই বিষয়গুলিই আলোচনার কেন্দ্রে।
তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য করার চেষ্টা করছি। শুরুটা কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে। তবে তার বাইরেও আলোচনা এগিয়েছে। শস্য রফতানি, জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর হামলা না করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হচ্ছে।”
তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যে এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পঞ্চাশের দশক থেকেই মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগের সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন নানা ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
জয়শঙ্করের বক্তব্য, সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভারতের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করে। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের চরিত্রও বদলেছে। সত্তর বা আশির দশকের ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সঙ্গে আজকের সম্পর্কের সরাসরি তুলনা করা যায় না।
বর্তমানে দু’দেশের সম্পর্ক শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরমাণু এবং মহাকাশ—একাধিক ক্ষেত্রেই সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। ফলে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মতো রাশিয়ার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে নতুন ভারসাম্য পেয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন জয়শঙ্কর।
ইউরোপের রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মূল্যায়ন নিয়েও তাঁর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। জয়শঙ্কর বলেন, ইউরোপ নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিচার করবে, ভারতও করবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। তাঁর মতে, ভারতের অভিজ্ঞতা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে “ইতিবাচক এবং ধারাবাহিক ভাবেই ইতিবাচক”।
এর মধ্যেই ভারতের সম্ভাব্য মধ্যস্থতার ইঙ্গিত মিলেছে মস্কো ও কিয়েভ—দুই শিবির থেকেই।
১ অক্টোবর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার বার সংঘাতের অবসানের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাঁর কাছে এ বিষয়ে “খুব ভাল কিছু ভাবনা” রয়েছে।
সেই দিনই কিয়েভে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তাঁদের কাছে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চারটি প্রস্তাব এসেছে। তাঁর দাবি, ভারতের প্রস্তাবই সবচেয়ে বিস্তৃত। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, এই প্রথম ভারত সংঘাত নিরসনে সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
সিবিহার দাবি, কৃষ্ণসাগরে জ্বালানি ও কৃষিপণ্য সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে প্রস্তুত কিয়েভ। পাশাপাশি, দুই পক্ষের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের রেখা বরাবর নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ইউক্রেন।
ভারত ছাড়াও তুরস্ক, মিশর এবং আমেরিকার কাছ থেকেও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে কিয়েভ।
তবে ইউক্রেনের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে শুধু সামরিক অভিযান থামানো নয়। সিবিহার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও বন্দর পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ এবং কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে।
অর্থাৎ, মস্কো ও কিয়েভ—দুই রাজধানীর সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে ভারত এখন এমন কিছু বাস্তবসম্মত ক্ষেত্র খুঁজছে, যেখানে প্রথমে সংঘাত কমানো সম্ভব। আর জয়শঙ্করের বক্তব্যে সেই কূটনৈতিক সক্রিয়তারই প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



