হাইলাইটস
• মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন লাল-সাদা-নীল রঙের বোয়িং ৭৪৭ বিমানকে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে উন্মোচন করলেন।
• বিমানটি কাতার সরকারের উপহার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
• ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত পুরনো প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানগুলির জায়গা নেবে এই নতুন জেট।
• উপহারের বিমান গ্রহণ নিয়ে কংগ্রেসে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে।
• বিমানটির অভ্যন্তরে রয়েছে বিলাসবহুল কনফারেন্স রুম, চামড়ার আসন এবং সোনালি রঙের নকশা।
• ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাই ওয়াশিংটনের আকাশে স্বাধীনতা দিবসের ফ্লাইওভারে এই বিমান অংশ নিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন। কাতার সরকারের দেওয়া এই বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি এখন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত পুরনো প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানের যুগের অবসান ঘটল।
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “এই বিমানটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে এটি আকাশে উড়ন্ত হোয়াইট হাউসের মতো। এর বিলাসিতা অতুলনীয়।”
নতুন বিমানের রঙ নিয়েও নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “লাল, সাদা ও নীল—এই রংগুলোই আমেরিকার পরিচয়। আগের হালকা নীল রংটা খারাপ ছিল না, কিন্তু পরিবর্তনের সময় এসে গিয়েছিল।”
ট্রাম্প দাবি করেন, বিদেশ সফরে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে অনেক দেশের রাষ্ট্রনেতাদের বিমান দেখতে আমেরিকার এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়েও আধুনিক ও আকর্ষণীয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন বিমানের ভাবনা আসে। তাঁর মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্টের বিমানেও সেই মর্যাদার প্রতিফলন হওয়া উচিত।
তবে এই বিমানকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। কাতারের উপহার হিসেবে প্রায় ২০ কোটি ডলার মূল্যের একটি বিমান গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের উপহার বিদেশি সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
যদিও ট্রাম্প এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “কাতার অত্যন্ত সৌজন্যের সঙ্গে এই বিমানটি দিয়েছে। আমরা একটি জটিল পরিস্থিতিতে ছিলাম, আর তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে।”
আসলে ২০১৮ সালে মার্কিন সরকার বোয়িং সংস্থার কাছে দুটি নতুন ৭৪৭-৮ বিমান অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু একের পর এক বিলম্বের কারণে সেগুলি এখনও প্রস্তুত হয়নি। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সেগুলি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হাতে নাও আসতে পারে। ফলে কাতারের দেওয়া বিমানটিকে অন্তর্বর্তী বা ‘ব্রিজ’ এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন, কোনও বেসামরিক বিমানকে প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের উপযোগী করতে হলে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সাইবার সুরক্ষা, এমনকি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক অভিঘাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থাও বসাতে হবে। এসব পরিবর্তনে ৪০ কোটি ডলারেরও কম খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমানটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা অবশ্য ট্রাম্পের রুচির ছাপ বহন করছে। চামড়ার আসন, সোনালি ও বাদামি রঙের সমন্বয়, চারটি ক্যাপ্টেন চেয়ারসহ একটি কনফারেন্স রুম এবং বড় টেলিভিশন—সব মিলিয়ে এটি যেন একটি বিলাসবহুল কর্পোরেট সদর দপ্তর। দেয়ালে ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুলের একটি শিল্পচিত্রও টাঙানো রয়েছে।
ট্রাম্প জানান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজ শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে ওয়াশিংটনে ফেরার যাত্রাই ছিল পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের “শেষ নির্ধারিত সফর”। তাঁর কয়েকজন সহকারী সামাজিক মাধ্যমে সেই বিমানের প্রতি আবেগঘন বিদায়বার্তাও পোস্ট করেছেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক Steven Cheung লিখেছেন, “ভালো কাজ করেছ, বিশ্বস্ত সঙ্গী।”
ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিমান দুটিকে ভবিষ্যতে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “ওগুলো দুর্দান্ত বিমান। আমেরিকার ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী। সেগুলিকে সম্মানের সঙ্গেই সংরক্ষণ করা হবে।”
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান শুধু একটি বিমান নয়, বরং ট্রাম্পের আমেরিকাকে নিজের পছন্দমতো নতুন রূপ দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার আরেকটি প্রতীক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।