‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’: কিংবদন্তির আড়ালে এক নিষ্ঠুর হত্যাকারীর গল্প

যা জানা জরুরি
- হাইলাইটস রবিন হুডকে নায়ক নয়, নির্মম খুনি ও দস্যু হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- পরিচালক Michael Sarnoski-র নতুন ছবি মধ্যযুগীয় কিংবদন্তিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
- সিস্টার ব্রিজিডের চরিত্রে Jodie Comer ছবিতে মানবিকতার আলো নিয়ে আসেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
- রবিন হুডকে নায়ক নয়, নির্মম খুনি ও দস্যু হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- পরিচালক Michael Sarnoski-র নতুন ছবি মধ্যযুগীয় কিংবদন্তিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
- নামভূমিকায় Hugh Jackman-এর অভিনয় প্রশংসিত।
- সিস্টার ব্রিজিডের চরিত্রে Jodie Comer ছবিতে মানবিকতার আলো নিয়ে আসেন।
- ছবিটি বীরত্বের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রবিন হুডকে আমরা দেখেছি দরিদ্রের বন্ধু, অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এবং ধনীদের কাছ থেকে লুট করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া এক কিংবদন্তি নায়ক হিসেবে। কিন্তু যদি সেই গল্পটাই মিথ্যা হয়? যদি রবিন হুড আসলে একজন নির্মম হত্যাকারী ও লুণ্ঠনকারী হয়ে থাকেন, যার বীরত্বের কাহিনি পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করেছে সত্যকে আড়াল করার জন্য?
এই সাহসী প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছে The Death of Robin Hood। পরিচালক Michael Sarnoski তাঁর ছবিতে রবিন হুডের প্রচলিত চেহারাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছেন। এখানে রবিন কোনও রোম্যান্টিক নায়ক নন, বরং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, অপরাধবোধে জর্জরিত এক মানুষ, যিনি নিজের অতীতের ভূতদের সঙ্গে লড়াই করছেন।
রবিনের চরিত্রে Hugh Jackman-কে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন অবতারে। তাঁর পরিচিত প্রাণোচ্ছলতা এখানে অনুপস্থিত। পরিবর্তে রয়েছে ক্লান্তি, হিংস্রতা এবং গভীর অনুশোচনার ছাপ। সারা জীবন হত্যা, লুটপাট আর সহিংসতায় কাটানোর পর তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা বীরত্বের কাহিনিগুলি আসলে বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ছবির শুরুতে রবিনকে দেখা যায় তাঁর পুরনো সঙ্গী লিটল জনের সঙ্গে একটি বিপজ্জনক অভিযানে যেতে। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি জেগে ওঠেন একটি কনভেন্টে, যেখানে তাঁর সেবা করছেন সিস্টার ব্রিজিড।
সিস্টার ব্রিজিডের চরিত্রে Jodie Comer ছবির আবেগঘন কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধ, মৃত্যু এবং রক্তপাতের অন্ধকার জগত থেকে হঠাৎ শান্ত, আলোকিত এক আশ্রয়ে পৌঁছে যায় রবিন। বাগান, মোমবাতির আলো, শিশুদের হাসি এবং সহমর্মিতায় ভরা এই পরিবেশ তাঁর জীবনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত।
ছবির প্রথম অংশ রক্তাক্ত ও নির্মম। মানুষের মাথা পাথরে থেঁতলে দেওয়া, ভয়াবহ আঘাত, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড—সবকিছুই মধ্যযুগীয় বর্বরতার চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশে ছবির গতি অনেক ধীর হয়ে যায়। সেখানে মূল বিষয় হয়ে ওঠে আত্মসমীক্ষা, পাপবোধ এবং মুক্তির সন্ধান।
পরিচালক সারনোস্কি তাঁর আগের ছবি Pig-এর মতোই এখানে সংবেদনশীল দৃশ্য নির্মাণে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আলো, আগুন, মাটি, রক্ত, বাতাস—এই মৌলিক উপাদানগুলিকে ব্যবহার করে তিনি চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
তবে ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি এর ধারণাগত সাহস। এটি কেবল রবিন হুডের গল্প নয়, বরং ইতিহাস ও কিংবদন্তি কীভাবে তৈরি হয়, সেই প্রশ্নও তোলে। সমাজ যাদের নায়ক বলে মানে, তারা কি সত্যিই নায়ক? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পকাররা তাদের নতুন রূপ দেন?
ছবিটি মাঝে মাঝে ধীরগতির এবং দীর্ঘ মনে হতে পারে। বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধে কাহিনি এগোনোর গতি কমে যায়। কিন্তু পরিচালক সচেতনভাবেই এই ছন্দ বেছে নিয়েছেন। দর্শককে তিনি উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চারের বদলে ভাবনার জগতে নিয়ে যেতে চান।
সব মিলিয়ে, The Death of Robin Hood এমন এক চলচ্চিত্র যা প্রচলিত রবিন হুড কাহিনির ভক্তদের চমকে দিতে পারে। এটি নায়ক তৈরির প্রক্রিয়া, স্মৃতি, ইতিহাস এবং ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে। ছবিটি দেখার অভিজ্ঞতা সবসময় আনন্দদায়ক না-ও হতে পারে, কিন্তু চিন্তার খোরাক জোগাতে এটি নিঃসন্দেহে সফল।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
Diptyajit Roy Chowdhury
বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।
আরও লেখা →সম্পর্কিত প্রতিবেদন
দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে
বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।



