এসআইআরের পরেই স্বেচ্ছাবসরের আবেদন ওড়িশার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

যা জানা জরুরি
- ওড়িশায় এসআইআর শেষ হওয়ার পর স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আর সন্থানা গোপালন।
- তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে তাঁর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন গোপালন।
- তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যগত কারণেই এই পদক্ষেপ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ওড়িশায় এসআইআর শেষ হওয়ার পর স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আর সন্থানা গোপালন।
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আবেদন জমা দেন। তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে তাঁর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন গোপালন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যগত কারণেই এই পদক্ষেপ। কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ে মনোযোগ দিতে চান তিনি। কয়েক মাস ধরেই সরকারি চাকরি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছিলেন। কিন্তু এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ হওয়া এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, ছেলের স্কুলের পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আরও প্রায় দু’বছর ওড়িশায় থাকতে পারেন তিনি।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা গোপালন ২০০১ ব্যাচের ওড়িশা ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রায় পঁচিশ বছরের প্রশাসনিক জীবনে আধার কর্তৃপক্ষ ইউআইডিএআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল, শ্রম দফতরের সচিব এবং কৃষি অধিকর্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চাকরির মেয়াদ তখনও প্রায় দেড় বছর বাকি। নির্বাচনী দায়িত্বের পাশাপাশি আবগারি দফতরের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বও রয়েছে তাঁর হাতে।
গোপালনের আবেদনের সময়টি অবশ্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২১ সেপ্টেম্বর এসআইআরের পরে ওড়িশার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সংশোধিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৬ লক্ষ। প্রায় ১৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী বিজু জনতা দল এবং কংগ্রেস। তালিকা সংশোধনের এই বিতর্ক চলার মধ্যেই রাজ্যের নির্বাচনী প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকের আগাম অবসরের আবেদন সামনে এসেছে।
ওড়িশার প্রশাসনে সম্প্রতি চাকরি ছাড়ার আরেকটি ঘটনাও সামনে এসেছে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওড়িশা ক্যাডারের আইপিএস আধিকারিক জগমোহন মীনাও চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্র সম্প্রতি তাঁর আবেদন গ্রহণ করেছে। সেই ঘটনার পর গোপালনের আবেদন রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়েছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও বিতর্ক চলছে। সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী দশ মাসে অন্তত চোদ্দো বার কমিশনের নামে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, একাধিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, ভোটার তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ দিল্লিতে কেন্দ্রীভূত হওয়া, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল এবং গোয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় তুলতে না পারার মতো বিষয় ওই অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব প্রশ্ন তালিকা সংশোধনের প্রশাসনিক পদ্ধতি এবং জবাবদিহিকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
কমিশন অবশ্য একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এসআইআর-সহ গত এক বছরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অভ্যন্তরীণ নোটে উত্থাপিত প্রশ্ন, পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণকে তারা খসড়া পর্যায়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক আলোচনা বলে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের দাবি, কিছু নির্বাচিত নোট সামনে এনে সামগ্রিক অনুমোদন ও সিদ্ধান্তের বিবরণ বাদ দিলে অসম্পূর্ণ ছবি তৈরি হয়। ভোটার তথ্যভাণ্ডারের ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তারা অননুমোদিত পরিবর্তন ঠেকানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে।
এই পরিস্থিতিতে গোপালনের আবেদন ঘিরে নজর তৈরি হলেও দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগের বিচার হবে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে; একজন আধিকারিকের স্বেচ্ছাবসরের আবেদন নিজে সেই অভিযোগের প্রমাণ নয়। আবার তাঁর ব্যক্তিগত কারণ জানানোর মধ্য দিয়েও তালিকা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। আপাতত নিশ্চিত ঘটনা হল আবেদন জমা পড়েছে; অবসর কার্যকর হয়ে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



