হাইলাইটস:
- মূল্যবৃদ্ধি, ঋণ ও কর্মসংস্থানের সংকটে ট্রাম্পের বিশ্বস্ত ‘মাগা’ সমর্থকদের মধ্যেই বাড়ছে অসন্তোষ।
- খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও আবাসন খরচ নিয়ে চরম চাপে রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশ।
- সমীক্ষায় অনেক ‘মাগা’ সমর্থকই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন।
- তবু ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও আস্থা ফিরছে না; ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল।
- মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য বাড়ছে সতর্কবার্তা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল তাঁর অটল ‘মাগা’ (Make America Great Again) ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু সেই দুর্গেই এবার ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে। মূল্যবৃদ্ধি, ঋণের চাপ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তে থাকা দৈনন্দিন খরচে ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সমর্থকদের একাংশও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন।
গার্ডিয়ানের জন্য হ্যারিস পোল-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, বিরোধীদের পাশাপাশি এখন রিপাবলিকান ঘাঁটির মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচেই নাজেহাল
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ‘মাগা’ সমর্থকদের মধ্যে—
- ৫৬ শতাংশ ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
- ৫৬ শতাংশ বাড়িভাড়া বা আবাসনের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
- ৫৭ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় নিয়ে চিন্তিত।
- ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার বিলকে বড় বোঝা বলে মনে করছেন।
- ৬১ শতাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামকে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলেছেন।
- ৬৩ শতাংশ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে বড় অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছেন।
অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখন ট্রাম্পের মূল সমর্থকদের জীবনকে প্রভাবিত করছে।
সরকারের দিকেই অভিযোগের আঙুল
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মূল্যবৃদ্ধির জন্য এখন অনেক রিপাবলিকান ভোটারই ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছেন।
সমীক্ষায় ৫৪ শতাংশ ‘মাগা’ সমর্থক বলেছেন, পণ্যের দাম বাড়ার জন্য সরকারের নীতিই মূলত দায়ী।
স্বাস্থ্য ভর্তুকি কমানোয় বিমার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে গৃহঋণ ও আবাসন বাজারে।
শুল্কনীতিতেও কমছে আস্থা
ট্রাম্প বরাবর দাবি করেছেন, তাঁর শুল্কনীতির বোঝা বিদেশি সংস্থাগুলিই বহন করবে। কিন্তু সেই যুক্তিতেও এখন আর পুরোপুরি বিশ্বাস রাখছেন না তাঁর সমর্থকদের বড় অংশ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪১ শতাংশ ‘মাগা’ ভোটার মনে করেন, শেষ পর্যন্ত শুল্কের খেসারত দিচ্ছেন মার্কিন ভোক্তারাই। মাত্র ৩১ শতাংশ এখনও বিশ্বাস করেন, এই খরচ বিদেশিরা বহন করছে।
কর্মসংস্থানেও চাপ
উৎপাদন শিল্পেও চাপ স্পষ্ট। শুল্কনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে বহু সংস্থা উৎপাদন কমিয়েছে। এর জেরে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে প্রায় এক লক্ষ উৎপাদন শিল্পের চাকরি হারানোর দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে কৃষকেরাও বাড়তি জ্বালানি, সার ও কৃষিযন্ত্রের খরচে সমস্যায় পড়েছেন।
গ্রামীণ আমেরিকাতেও বাড়ছে অসন্তোষ
২০২৪ সালের নির্বাচনে গ্রামীণ আমেরিকায় বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন সেই এলাকাতেই অসন্তোষ বাড়ছে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার মনে করছেন তাঁদের ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ।
একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের ডিগ্রি নেই—এমন ভোটারদের মধ্যেও অর্থনৈতিক হতাশা বেড়েছে। বর্তমানে ৪৫ শতাংশ মনে করছেন তাঁদের আর্থিক অবস্থা অবনতি হচ্ছে।
তবু ট্রাম্পকে পুরো ছাড়ছেন না
অসন্তোষ বাড়লেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
- ৫৭ শতাংশ ‘মাগা’ সমর্থকের বিশ্বাস, সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
- ৬৯ শতাংশ এখনও মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।
তবে একই সঙ্গে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমর্থক মনে করছেন, সরকারের নীতিই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্যও সুখবর নয়
এই অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জন্য স্বয়ংক্রিয় সুবিধা তৈরি করছে না।
সমীক্ষায় মাত্র ২৬ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন, ডেমোক্র্যাটরা মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধান করতে পারবেন। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে সেই হার ২৫ শতাংশ। আর ৩৬ শতাংশ মনে করেন, দুই দলই এই সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সতর্কবার্তা
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগে এই সমীক্ষা রিপাবলিকান শিবিরের জন্য স্পষ্ট সতর্কসংকেত।
একদিকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি বাড়ছে অসন্তোষ, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও পূর্ণ আস্থা ফিরছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ভোটারদের হতাশা বাড়ছে, কিন্তু বিকল্প নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস এখনও সীমিত। এই দ্বিধাই আগামী নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।