এসআরএফটিআইয়ে হিংসার তদন্তে ছয় সদস্যের সিট, আজ প্রাথমিক রিপোর্ট

যা জানা জরুরি
- কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষের তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
- রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার তদন্ত করবে এই দল।
- আজ, বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে সংঘর্ষের তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার তদন্ত করবে এই দল। আজ, বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, অপরাধ, কুণাল আগরওয়াল।
সিটের অন্য সদস্যরা হলেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার স্পর্শ নীলাঙ্গি, সিআইডির ডেপুটি সুপার কৌশিক ঘোষ, অ্যান্টি রাউডি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সলিল রায়, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তুষারকান্তি ঘোষ এবং গোয়েন্দা বিভাগের ইনস্পেক্টর হীরক দলপতি। স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের নির্দেশে এই দল গঠিত হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি অনুষ্ঠান চলছিল প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানান একদল পড়ুয়া। আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পড়ুয়া এবং আয়োজক, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।
পড়ুয়াদের বক্তব্য, তাঁদের না জানিয়েই ওই সংগঠনকে অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবাদ জানালে তাঁদের জঙ্গি ও বাংলাদেশি বলে কটূক্তি করা হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, গ্রাহক পঞ্চায়েতের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি-সহ ব্যানার ছেঁড়া হয়।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, তাদের মহিলা কর্মী-সহ সদস্যদের মারধর ও গালিগালাজ করা হয়েছে। পড়ুয়াদের তরফে আবার অভিযোগ, বাইরের লোকজন ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে এবং ভিতরে পাথর ও বোতল ছোড়ে। অভিযোগগুলির সত্যতা ও সংঘর্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণই এখন তদন্তের বিষয়।
প্রতিষ্ঠানের ডিন, ফিল্ম, সুকান্ত মজুমদার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পড়ুয়া ও দুই শিক্ষককে আটকে রেখে আঘাত করেন। ছাত্রীদের শালীনতাহানি এবং হুমকির অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় পাল্টা অভিযোগ, একদল অজ্ঞাতপরিচয় পড়ুয়া পুলিশকর্মীদের বাধা দেন, ধাক্কাধাক্কি করেন এবং সরকারি গাড়ির জানলার কাচ ভাঙেন।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিট গঠনের বিজ্ঞপ্তিতে যে তিনটি মামলার উল্লেখ রয়েছে, তার একটি পুলিশের নিজস্ব অভিযোগে দায়ের। অন্য দু’টি হয়েছে প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক পঞ্চায়েতের অভিযোগের ভিত্তিতে। ফলে তদন্তে উভয় পক্ষের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি যাচাই করবেন। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা পৃথকভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। ঘটনার পিছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকছে।
সংঘর্ষের পরে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা অশান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকে। পরে প্রতিষ্ঠানের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পড়ুয়ারা প্রতিবাদ আন্দোলনের পরিকল্পনার কথাও জানান। শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনায়।
এর মধ্যেই বুধবার কয়েক ঘণ্টা এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে কাটিয়েছে সিট। অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে, পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশদ্বার, সেমিনার হল ও গ্রন্থাগার পরিদর্শন করে ঘটনার পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংগৃহীত ফুটেজের সঙ্গে সাক্ষ্য মিলিয়ে দেখার কাজও চলছে।
এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে পড়ুয়ারা ক্লাসে ফিরবেন বলে তাঁরা আশ্বাস পেয়েছেন। তবে আজ জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত রিপোর্টটি প্রাথমিক; সেটিকে চূড়ান্ত তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



