মাসে বাবার বেতন সোয়া দুই লক্ষ, মেয়ের সংরক্ষণ-নথিতে পরিবারের আয় বছরে চল্লিশ হাজার

যা জানা জরুরি
- কর্ণাটক লোকসেবা কমিশনের সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যানের মেয়েকে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বার্ষিক পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগে এক রাজস্ব পরিদর্শকের আগাম জামিন নাকচ করেছে…
- সংশ্লিষ্ট সময়ে চেয়ারম্যান শিবশঙ্করাপ্পা এস সাহুকারের মাসিক বেতনই ছিল প্রায় ২.২৫ লক্ষ টাকা।
- রাজস্ব পরিদর্শক শিবশরণাপ্পার এখন গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কর্ণাটক লোকসেবা কমিশনের সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যানের মেয়েকে মাত্র ৪০ হাজার টাকা বার্ষিক পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগে এক রাজস্ব পরিদর্শকের আগাম জামিন নাকচ করেছে বেঙ্গালুরুর দায়রা আদালত। সংশ্লিষ্ট সময়ে চেয়ারম্যান শিবশঙ্করাপ্পা এস সাহুকারের মাসিক বেতনই ছিল প্রায় ২.২৫ লক্ষ টাকা। রাজস্ব পরিদর্শক শিবশরণাপ্পার এখন গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাহুকারের মেয়ে সুমা সাহুকার শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের শিল্প সম্প্রসারণ আধিকারিক পদে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ৩বি বিভাগে আবেদন করেছিলেন। ২০২৪ সালের মার্চে ৫০টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হয়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ফেব্রুয়ারির নথি যাচাইয়ে বিতর্কিত আয়ের শংসাপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
কমিশনের সহকারী সচিব বি এন শোভার অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ জুলাই এফআইআর হয়। নথি অনুযায়ী, শিবশঙ্করাপ্পা সাহুকার ২০১৯ সালে কমিশনের সদস্য হওয়ার সময় মাসে প্রায় ২.০৫ লক্ষ টাকা এবং ২০২১ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পরে প্রায় ২.২৫ লক্ষ টাকা পেতেন। সেই পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার টাকা দেখানোর অসঙ্গতিই তদন্তের কেন্দ্র।
সুমা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হলেও তিনি আগে আগাম জামিন পেয়েছেন। তাঁর নিয়োগ চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে কি না, বিভাগীয় সিদ্ধান্ত আলাদা বিষয়। আদালতে দোষ প্রমাণের আগে তাঁকে বা শংসাপত্র দেওয়া আধিকারিককে অপরাধী বলা যায় না। বর্তমান আদেশ শুধু রাজস্ব পরিদর্শকের গ্রেফতার-পূর্ব সুরক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কর্ণাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট ২৫ আগস্ট সাহুকারকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তাঁর দুই মেয়ের নিয়োগে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। চেয়ারম্যানকে নিয়োগ করা হয়েছিল ২০২১ সালে, পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের সময়ে; অভিযোগ সামনে এসেছে বর্তমান কংগ্রেস সরকারের সময়ে। ফলে দলীয় দায় চাপানোর বাইরে কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দেখা জরুরি।
এর সঙ্গে পশুচিকিৎসক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস এবং ৩৮৪ জন গেজেটেড প্রবেশনার নির্বাচনে অনিয়মের পৃথক অভিযোগও যুক্ত হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের দাবি, পশুচিকিৎসকের ৪০০টি শূন্যপদের পরীক্ষায় মধ্যস্থতাকারীরা প্রশ্ন আগে থেকে কয়েকজন প্রার্থীকে দিয়েছিল। সাহুকার সেই মামলাতেও আগাম জামিন চেয়েছিলেন; কর্ণাটক হাই কোর্ট তা নাকচ করেছে।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের প্রতারণা মেধাবী তরুণদের সুযোগ কেড়ে নেয় এবং পরীক্ষার প্রতি জনবিশ্বাস নষ্ট করে। সরকারি চাকরির একটি সংরক্ষিত আসন প্রতারণায় গেলে ক্ষতি শুধু একজন অদৃশ্য প্রার্থীর নয়; পুরো সংরক্ষণব্যবস্থাকেই সন্দেহের মুখে ফেলে।
বিশ্লেষণ: মামলাটিকে ‘প্রভাবশালী বাবার মেয়ে’ কাহিনিতে সীমাবদ্ধ রাখলে মূল রোগ আড়ালে যাবে। আয় ও জাতিগত শংসাপত্রের তথ্য সরকারি বেতনভাণ্ডার, কর ও পরিবার-তথ্যের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা যেত। কমিশনের সদস্য বা তাঁদের নিকটাত্মীয় প্রার্থী হলে স্বার্থের সংঘাত ঘোষণা এবং স্বাধীন নথি যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। তদন্তের শেষে অভিযোগ ভুল হলে নাম পরিষ্কার করতে হবে; সত্য হলে চাকরি বাতিলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরবর্তী যোগ্য প্রার্থীর অধিকারও পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



