ভোজ্যতেলে ২০ শতাংশ দামবৃদ্ধি, আমদানি শুল্ক কমালে স্বস্তি কার—ভোক্তা না বিদেশি বাজারের

যা জানা জরুরি
- উৎসবের মরসুমের আগে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক আরও পাঁচ শতাংশ-বিন্দু কমানোর কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।
- গত এক বছরে ভারতের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
- শুল্ক কমলে আমদানি সস্তা হতে পারে; একই সঙ্গে দেশীয় সয়াবিন, সর্ষে ও অন্যান্য তৈলবীজচাষির দাম নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
উৎসবের মরসুমের আগে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক আরও পাঁচ শতাংশ-বিন্দু কমানোর কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র। গত এক বছরে ভারতের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তটি সহজ নয়। শুল্ক কমলে আমদানি সস্তা হতে পারে; একই সঙ্গে দেশীয় সয়াবিন, সর্ষে ও অন্যান্য তৈলবীজচাষির দাম নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ভারত নিজের প্রয়োজনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোজ্যতেল আমদানি করে। প্রধান পণ্য পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল, আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন তেল এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে সূর্যমুখী তেল আসে। তাই আন্তর্জাতিক আবহাওয়া, যুদ্ধ, জৈবজ্বালানি নীতি এবং রুপির বিনিময় হার সরাসরি রান্নাঘরের খরচে পৌঁছয়।
বর্তমানে আলোচনায় থাকা প্রস্তাবটি এখনও সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বড় কাটছাঁটের বদলে মূল আমদানি শুল্ক পাঁচ শতাংশ-বিন্দু কমানো হতে পারে। ২০২৫ সালের মে মাসে অপরিশোধিত পাম, সয়া ও সূর্যমুখী তেলের মূল শুল্ক ২০ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়েছিল। অন্যান্য উপকরসহ কার্যকর হার তখন ২৭.৫ থেকে ১৬.৫ শতাংশ হয়েছিল।
আগের অভিজ্ঞতা সরকারকে সতর্ক করছে। ভারত বড় ক্রেতা হওয়ায় শুল্ক কমলে দেশের আমদানিকারকের চাহিদা দ্রুত বাড়ে। আন্তর্জাতিক বিক্রেতারা সেই সংকেত পেয়ে দাম বাড়ালে করছাড়ের একটি অংশ বিদেশি বাজারেই শোষিত হয়। ফলে সরকারি রাজস্ব কমলেও খুচরো ক্রেতা পুরো সুবিধা পান না। আমদানিকারক, পরিশোধক, পাইকার ও দোকানের প্রতিটি ধাপে দাম কত কমল, নজরদারি প্রয়োজন।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বর–নভেম্বর দেশীয় সয়াবিনসহ কয়েকটি তৈলবীজ বাজারে আসার সময়। ঠিক তখন সস্তা আমদানি ঢুকলে কৃষকের বাজারদর ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিচে যেতে পারে। কেন্দ্রকে পরে সরকারি ক্রয় বা মূল্য-সহায়তায় বেশি খরচ করতে হতে পারে। ভোক্তার আজকের স্বস্তি এবং কৃষকের পরের মরসুমে উৎপাদনের উৎসাহ—দুটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে।
শুল্ক কমানোর ঘোষণামাত্র দোকানের পুরনো মজুতের দাম বদলায় না। নতুন কম-শুল্কের পণ্য বন্দরে এসে সরবরাহশৃঙ্খলে পৌঁছতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। প্যাকেটজাত তেলের দাম কমার সঙ্গে খোলা তেলের বাজারও এক গতিতে নাও চলতে পারে। অতএব সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক ৫ শতাংশ খুচরো মূল্যহ্রাস হিসেবে গণনা করা ভুল।
দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আমদানিনির্ভরতা। পাম তেলের উৎপাদন বাড়াতে জমি ও জলবায়ুর সীমা রয়েছে; সর্ষে, চিনাবাদাম, সয়াবিনের ফলন, উন্নত বীজ, সংগ্রহ ও পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া প্রতি মূল্যবৃদ্ধিতে শুল্ক পাল্টাতে হবে। ঘনঘন নীতিবদল আবার ব্যবসায়ী ও কৃষক—দুই পক্ষের পরিকল্পনা কঠিন করে।
বিশ্লেষণ: সীমিত সময়ের শুল্কছাড় মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা নরম করতে পারে, কিন্তু তা লক্ষ্যভিত্তিক ও পর্যালোচনাযোগ্য হওয়া উচিত। সরকারকে শুল্কের আগের–পরের আমদানিমূল্য, পাইকারি দাম ও খুচরো মূল্য প্রকাশ করতে হবে। তৈলবীজ সংগ্রহের নিশ্চয়তা ছাড়া উৎসবের সস্তা তেল কৃষকের পরের বছরের উৎপাদন কমিয়ে আবার দাম বাড়াতে পারে। রান্নাঘর ও খেতকে আলাদা বাজার ভাবলে কোনও সমাধানই স্থায়ী হবে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



