খবর

‘গোল্ডি ব্রার নজর রাখছে’: এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেডের বাড়িতে মুখে কুলুপ, চারদিকে নজরদারি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুক্তসরের বাড়িটিতে থাকেন গোল্ডি ব্রারের বাবা-মা।
  • চারপাশের দিকে তাক করে বসানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা।
  • তোলাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের গোড়ায় গ্রেফতার হওয়ার পরে তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুক্তসরের বাড়িটিতে থাকেন গোল্ডি ব্রারের বাবা-মা। চারপাশের দিকে তাক করে বসানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। তোলাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের গোড়ায় গ্রেফতার হওয়ার পরে তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত।

সামনের বারান্দার উপর টাঙানো সবুজ আচ্ছাদন। বাইরের চোখ থেকে বাড়িটিকে আরও আড়াল করেছে সেটি। ছ’শোর কিছু বেশি বর্গমিটার জায়গাজুড়ে থাকা এই বাড়ির প্রায় দেড়শো বর্গমিটার রাখা হয়েছে গাছপালার জন্য। এখানেই থাকেন গোল্ডির বাবা শামশের সিংহ এবং মা প্রীতপাল কৌর।

গোল্ডির তোলাবাজির চক্র চালাতে সাহায্য করা এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে করা ফোনকলের বিষয়টি সামলানোর অভিযোগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত।

গ্রেফতারির কিছু দিন পরেই গোল্ডির বলে দাবি করা একটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে আসে। তাতে এই পদক্ষেপের জন্য পুলিশ কর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

বাড়ির দরজায় সাড়া দেন প্রীতপাল। কিন্তু দরজা খুলতে কিংবা কোনও কথা বলতে রাজি হন না। পুলিশ, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ এবং মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রগুলিকে গোল্ডির ঘনিষ্ঠদের—তাঁর বাবা-মা-সহ—নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি বলে মনে করা হয়।

প্রতিবেশীরা জানান, পুলিশ আবাসন ছেড়ে পরিবারটি প্রায় ২০০৪ সাল নাগাদ এই বাড়িতে উঠে আসে। বাইরের দেওয়ালে সাঁটানো একাধিক সরকারি নোটিসের ছেঁড়া, খসে পড়া অংশ বাড়িটিতে এনআইএ-র বারবার অভিযানের সাক্ষ্য বহন করছে।

পরিবারটি সম্পর্কে কথা বলতে রাজি হওয়া অল্প কয়েক জনের মধ্যে ছিলেন এক প্রবীণ পথচারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি শামশেরকে ‘সম্মানীয়’ মানুষ বলে বর্ণনা করেন। তবে তাঁর সংযোজন, পাড়ায় কেউই গোল্ডিকে কখনও দেখেছেন বলে মনে করতে পারেন না। পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, ছেলেকে সাহায্য করার অভিযোগ ওঠার পরে ২০২১ সালে শামশেরকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরোনো আর এক ব্যক্তি বলেন, “গোল্ডি বা তাঁর পরিবার সম্পর্কে আমাদের নামে একটি কথাও লেখা হোক, তা আমরা চাই না।”

পুলিশ সূত্রের সন্দেহ, গোল্ডি যেখানেই থাকুন না কেন, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে এই বাড়ির উপর নজর রাখেন।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারণা, ২০২২ সালের মে মাসে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা খুন হওয়ার পরে ওই বছরই গোল্ডি আমেরিকায় পালিয়ে যান। এই মামলায় দাখিল করা চার্জশিটে এনআইএ তাঁকে হামলার ‘মূল ষড়যন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেছে।

এফবিআইয়ের বর্ণনায়, গোল্ডি ‘উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সংগঠিত অপরাধচক্রের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে কাজ করছেন’। তবে ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশ্যে আসা, গোল্ডির বলে দাবি করা একটি অডিয়ো ক্লিপে তাঁর সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত মিলেছিল। বিষ্ণোই গুজরাতের সবরমতী জেলে বন্দি।

মনে করা হয়, বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল আমেরিকায় আটক হয়ে প্রত্যর্পিত হওয়ার পরে দু’জনের মধ্যে বিরোধ বাধে। বিষয়টি সামলানো নিয়ে গোল্ডি এবং আজারবাইজানে থাকা গ্যাংস্টার রোহিত গোদারাকে দায়ী করেছিলেন বিষ্ণোই।

২০২৫ সালের জুনের ওই অডিয়োতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে কোনও যোগসাজশ থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেন গোল্ডি। তাঁর দাবি ছিল, “কাউকে দেশপ্রেমিক বা দেশদ্রোহী তকমা দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনকে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা কখনও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করিনি।”

মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গোল্ডিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছিল পাঞ্জাব পুলিশ। গোল্ডির উপর এফবিআইয়ের নজর দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। তবে পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, কানাডার কর্তৃপক্ষ তাদের সতর্কবার্তাগুলিকে গুরুত্ব দিলে অনেক আগেই তাঁকে ধরা যেত।

রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, গোল্ডিকে ধরতে তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। তাঁর কথায়, “কানাডার ভূমিকায় আমরা অত্যন্ত হতাশ হয়েছিলাম… ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস থাকা এবং কানাডার ‘বি অন লুক আউট’ বা বোলো তালিকায় তাঁর নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই ওই তালিকা থেকে তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।”

পাঞ্জাব পুলিশের বক্তব্য, আমেরিকায় ঘাঁটি সরানোর আগে কানাডা থেকেই প্রকাশ্যে তোলাবাজির চক্র চালাতেন গোল্ডি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গুজরাতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ঘোষণা করেছিলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ক্যালিফর্নিয়ায় গোল্ডিকে আটক করেছে। পরে দেখা যায়, সেই তথ্য সঠিক ছিল না।

বিদেশ থেকে সক্রিয় গোল্ডি এবং এই ধরনের অন্য অপরাধীদের সম্পর্কে পাঞ্জাব পুলিশের তৈরি একটি নথিতে বলা হয়েছে, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কানাডার ভূখণ্ড থেকে এই অপরাধী চক্রগুলি সমন্বিতভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় নাগরিকদের ফোন করে তোলা দাবি করে এসেছে।”

নথি অনুযায়ী, মূলত ছোট ব্যবসায়ী এবং বিনোদনজগতের ব্যক্তিরাই এই চক্রগুলির নিশানা হন। সেখানে বলা হয়েছে, “পরিচয় গোপন রেখে আন্তর্জাতিক ফোনকল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করার ভিওআইপি পরিষেবা এবং এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তোলা দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে বাড়িতে গুলি চালানো, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গ্রেনেড হামলা, বেছে বেছে খুন এবং পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়। একাধিক ঘটনায় দাবি পূরণ না হলে সেই হুমকি কার্যকরও করা হয়েছে।”

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles