Home খবর বিদেশযাত্রায় ‘না’ অভিষেককে, চিকিৎসার আবেদন খারিজ

বিদেশযাত্রায় ‘না’ অভিষেককে, চিকিৎসার আবেদন খারিজ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
8 views 3 minutes read
A+A-
Reset

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট; বিচারাধীন মামলা ও মেডিক্যাল বোর্ডে অনীহাকেই গুরুত্ব আদালতের

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া সমীচীন নয়। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তাবও আবেদনকারী নিজেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার ও তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। এই অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আদালত এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত নেয়।

শুনানির সময় বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, যদি সত্যিই বিদেশে চিকিৎসা ছাড়া বিকল্প না থাকে, তাহলে এসএসকেএম হাসপাতালের স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ডের পরীক্ষায় সম্মত হওয়া হল না কেন? আদালতের মতে, ওই বোর্ডই বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন দিতে পারত।

অভিষেকের আইনজীবীরা অবশ্য আদালতকে জানান, তাঁদের মক্কেল মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হতে ইচ্ছুক নন। এই অবস্থানকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আদালত জানায়, আবেদনকারী নিজেই নিরপেক্ষ চিকিৎসা-পরীক্ষার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে কেবল ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, তাঁর চোখে জটিল সমস্যা রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া জরুরি। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, দেশের চিকিৎসকেরাও বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আদালতের বক্তব্য, সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা আবেদনকারী গ্রহণ করেননি।

রায়ে আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার অনুমতি কোনও স্বয়ংক্রিয় বা মৌলিক অধিকার নয়, বিশেষত যখন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চিকিৎসার প্রয়োজন, তদন্তের স্বার্থ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা আদালতের দায়িত্ব।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে। বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে তদন্ত বা আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালত এই যুক্তিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

তবে হাইকোর্ট দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি নিরপেক্ষ চিকিৎসা-প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী নতুন করে আবেদন বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চলা একাধিক তদন্তের আবহে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি নিয়ে এই মামলা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসা-যাচাই এবং বিচারাধীন মামলার স্বার্থকে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

ফলে আপাতত চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় ভবিষ্যতের অনুরূপ মামলাগুলির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles